গাইবান্ধায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন গেলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত মোট সাতজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্য তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজন গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এখন বাড়িতে অবস্থান করছেন।

আক্রান্তরা হলেন, গাইবান্ধা শহরের বানিয়ারজান এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২২), একই শহরের মমিনপাড়ার আব্দুল জলিলের মেয়ে প্রিয়া আকতার (২০) ও মুন্সিপাড়ার আব্দুস সামাদের ছেলে ফাহিম (১৯), সাদুল্লাপুর উপজেলা শ্রীকলা গ্রামের নুরুননবী মিয়ার মেয়ে নুরনাহার আক্তার নিশা (২০), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরাম গ্রামের মোঃ মিঠু খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার (১৯) একই উপজেলার কুমারগাড়ী গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে এনাম (২৫)।

এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার দুপুরে আরও একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানান গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আবু হানিফ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তার পরিচয় জানাতে পারেনি।

এদিকে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রকি (২২) ও পলাশবাড়ী উপজেলার খামার বালুয়া গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে মোস্তফা (২৬) নামে আরও দুইজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয সূত্রে জানা যায়।

তবে এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কোন তথ্য নাই বলে জানিয়ে সিভিল সার্জন আবু হানিফ বলেন, অনেকে আক্রান্ত হয়ে গাইবান্ধার কোন হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়ি কিংবা সরাসরি জেলার বাহিরে অন্য কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের ব্যাপারে এখানে কোন তথ্য নাই।

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়াক ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান জানান, প্রথমে গত সোমবার (২২ জুলাই) সাগর ও পরে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) প্রিয়া ও রাশেদুল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এরপর দিন গেলেই এই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আক্রান্তরা সবাই ঢাকা থেকে এই জীবাণু গাইবান্ধায় নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ ঢাকায় চাকরি করেন, কেউ লেখাপড়া করেন, আবার কেউ ঢাকায় বেড়াতে কিংবা কাজে গিয়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গাইবান্ধায় ফিরে আসেন।

সদর হাসপাতালে মেডিকেল অফসিার ডা. শেখ মো. সুলতান আহমদে জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাশেদুল, এনাম ও প্রিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

সিভিল সার্জন আরও জানান, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডেঙ্গু কর্ণার খোলা হয়েছে। জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভয়ের কোন কারণ নেই।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শহরে মাইকিং চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য