৩০জুলাই মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুগ্ধ পল্লী সংগঠন দুধ বিক্রি ও খামারীদের বাঁচানোর দাবীতে মানববন্ধন ও রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ করেছেন। এতে প্রায় ৫শতাধিক গো-খামারী অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষুব্ধ খামারীরা জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সহস্রাধিক দুগ্ধ খামার থেকে প্রতিদিন ১২/১৪হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যা ব্র্যাক, আরডি সহ ৪টি চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনায় এসব কোম্পানির দুধ ক্রয়-বিক্রয় স্থগিতাদেশের কারণে এ উপজেলায় খামারীদের কাছ থেকে দুধ ক্রয় করা বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেও মিলছে না ক্রেতা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গো-খামারীরা। তাই ৩০ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে কোথাও দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারীরা হতাশায় রাজারহাট বাজারে প্রায় ২’শ লিটার দুধ রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন রাজারহাট দুগ্ধ পল্লী সংগঠনের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ মন্ডল মংলা, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, কোষাধ্যক্ষ আজিজুল হক, খামারী আঃ জলিল মাষ্টার, কৃপাসিন্দু, রতন কুমার মন্ডল,সুমন মিয়া, রনজিৎ কুমার রায় প্রমূখ। বক্তারা অবিলম্বে সরকারীভাবে দুধ ক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানান।

অভিযোগ করেন-বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা এসব দুগ্ধ খামারীরা পড়েছেন চরম দুঃশ্চিন্তায়। ক্ষুদ্র খামারীদের উৎপাদিত দুধ বিক্রিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তারা। খামারিদের সংগঠন রাজারহাট দুগ্ধ পল্লী সংগঠনের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ মন্ডল মংলা বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন করে থাকি। দুধ বিক্রি করি ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এ দিয়েই আমাদের জীবন-জীবিকা চলে। এখন হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক রংপুর ডেইরি(আরডি) ছাড়া বাকী প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে দুধ কেনা বন্ধ রেখেছে। যা উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম ক্রয় করে রংপুর ডেইরি।

এ ব্যাপারে রাজারহাট ব্র্যাক চিলিং সেন্টারের ইনচার্জ মোঃ আসলাম মোল্লা বলেন, হাইকোর্ট দুধ উৎপাদন ও কেনা-বেচায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় গত ২৮জুলাই বিকাল থেকে দুধ কেনা বন্ধ রেখেছি। ব্র্যাক চিলিং সেন্টারের আওতায় এ উপজেলার ২৯৩জন খামারী প্রতিদিন ২হাজার লিটার দুধ বিক্রি করে। তারা বর্তমানে চরম বিপাকে রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য