মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট সৌদি আরবে ৮১০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির বিতর্কিত পদক্ষেপ আটকানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে।

সোমবার এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থনের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রি আটকাতে এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পাস হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পরে সেগুলোতে ভিটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

প্রেসিডেন্টের ওই ভিটো উল্টে দিতে সোমবার সিনেটে ওঠা প্রথম প্রস্তাবের পক্ষে ৫ রিপাবলিকান সদস্য অবস্থান নিলেও কাজ হয়নি।

১৫ সদস্যের অনুপস্থিতিতে ভোটের ব্যবধান থাকে ৪৫-৪০। পরের দুটি প্রস্তাবেও ব্যবধান প্রায় একইরকম ছিল।

প্রেসিডেন্টের ভিটো বদলাতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগে। সিনেটে এ প্রস্তাবগুলো পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘কার্যত’ আর কোনো বাধার মুখে পড়তে হবে না।

সৌদি আরব ইয়েমেনের বেসামরিকদের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, এমন সন্দেহে ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে গত বছর থেকেই নানান ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখলে তা ‘বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায়’ যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ইরানের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি ত্বরান্বিত করতে মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট মে মাসে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলে তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাশাপাশি শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির তেল রপ্তানি বন্ধেও একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিতে থাকে।

এর পাল্টায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিমের দেশগুলোতে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নৌযানই এ প্রণালী ব্যবহার করে থাকে।

সম্প্রতি ইরান তাদের ‘আকাশসীমায় ঢুকে পড়া’ মার্কিন একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পরে হরমুজে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায়ও ওয়াশিংটন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির দিকেই আঙ্গুল তুলেছে। ইরান সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য