দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশী হলেও গত সোমবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত ৯জন রোগি ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া রোগিদের বেশীরভাগই ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ঢাকায় হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় দিনাজপুরে ভর্তি হয়েছেন বলে তারা জানান। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এই ৯ জনের মধ্যে ৭জন শিক্ষার্থী যারা ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে লেখাপড়া করেন। অন্যরা জন চাকরীজীবী বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ৯জন ডেঙ্গু রোগী হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের কয়েকজন হলেন- দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়ার মো. মোনাল হোসেনের ছেলে মো. পাপ্পু (১৭), বোচাগঞ্জ উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মাইনুল হাসান (২৪), বিরামপুর উপজেলার সাঙ্গপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে মো. জীবন (২০), চিরিরবন্দর উপজেলার দল্লা গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে রাব্বি ইসলাম (২৪) ও ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার গেদুয়া গ্রামের তবিরুর রহমানের ছেলে স্কুল শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন (৪১)। তারা সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই রবিবার হতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এর আগে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড ছিল না। সাধারণ ওয়ার্ডের রোগিদের পাশাপাশি শয্যায় রেখে তাদের চিকিৎসা দেয়া হতো। তবে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হলেও ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণের জন্য কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খাইরুল কবির জানান, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্র না থাকায় তার চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পেলে এখানেই ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এদিকে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগির রোগ নির্নয়ে টেস্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সকল বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একই ফি গ্রহণ করবে যা ২৮ জুলাই-২০১৯ থেকে কার্যকর হবে। ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট ফি নিম্নরুপ-NSI Antigen ফি সর্বোচ্চ ৫০০/= টাকা, IgG & IgM সর্বোচ্চ ৫০০/= টাকা, CBC সর্বোচ্চ ৪০০/= টাকা। সকল বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু রোগির ব্যবস্থপনার জন্য অতিরিক্ত শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, সোমবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি ভর্তি রয়েছেন। এই হাসপাতালে একটি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ব্যাপক প্রচারনা চালানো হবে যাতে কোন ডেঙ্গু রোগি থাকলে গোপন না রেখে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতালে আনলে আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেবো। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দিনাজপুরে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি। বিভিন্ন কারণে যারা ঢাকায় যাচ্ছে, মূলত তারাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশীর ভাগই ছাত্র।

ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস আরো জানান জানান, তার অফিসের (সিভিল সার্জন অফিসের) মেডিকেল অফিসার ডা. রায়হার শরিফ ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তিনি জানান, ১৩টি উপজেলায় বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। কারো ডেঙ্গু সন্দেহ হলে দিনাজপুরে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আক্রান্তদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আশঙ্কাজনক কোন অবস্থা নেই।

৩০ জুলাই মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে রাখা ও আক্রান্তদের করনীয় বিষয়ে বৈঠক করা হবে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য