আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একই বিদ্যালয়ের এক সহকর্মি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপর সহকারি শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মুরারীপুর ওসমান গণি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদ্বয়ের মধ্যে স্পর্শকাতর এমন ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও প্রত্যাশিত কোন প্রতিকার পায়নি বলে ওই শিক্ষিকা জানান। ফলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থী অভিভাবক মহলের মাঝে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, মতলুবর রহমান বিএসসি দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষিক। পাশাপাশি দিপালি রানীও একজন সহকারি শিক্ষিকা। ভূক্তভোগি শিক্ষিকা জানান কর্মস্থলে একইসাথে থাকার সুবাদে মতলুবর রহমান বিভিন্ন দিন নানাভাবে যৌন হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছিল।

এরই ধারাবহিকতায় সম্প্রতিতে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে দিপালি রানী পরীক্ষা শেষে ক্লাসকক্ষে পরীক্ষার খাতা সর্টিংয়ের কাজ করার সময় শিক্ষক মতলুবর পিছন থেকে আকস্মিক শিক্ষিকাকে জাঁপটে ধরে। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও শ্লীলতাহানির শিকার ওই শিক্ষিকা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন।

এদিকে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্বশীলরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার মানসে নানা টালবাহানা করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মতলুবর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, আমি শুধুমাত্র অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছি। এ অপরাধের জন্য আমি করজোড়ে ক্ষমাও চেয়েছি। আর্থিক সুবিধার লোভ দেখিয়ে তিনি বলেন আপনাদের ধর্মের দোহাই-আল্লাহর দোহাই এসব লিখবেন না।

এলাকাবাসী আরো জানান, ওই শিক্ষক বিগত ৮/৯ বছর আগেও শিক্ষক মতলুবর রহমান একই কায়দায় জাপটে ধরে শ্লীলতহানি করায় সে দফায় মাফ চাইলে দিপালি রানী তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী রাজনগর গ্রামের জনৈক এক ছাত্রীর সাথে অসৌজন্য ব্যবহার করে মতলুবর জরিমানা গুনেছিল বলে এলাকাবাসি জানান।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনুল আলম তরফদার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই শিক্ষিকা আমার ও সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।

কিন্তু তৎক্ষনাৎ ম্যানেজিং কমিটির একটি সভা আহবান করে বিষয়টি মিটিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক এধরনের পৃথক কোন শ্লীলতাহানির আরচণ করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য