বিভিন্ন ধরণের মশলার মাঝে দারুচিনি বেশ পরিচিতি ও জনপ্রিয় একটি উপাদান। Cinnamomum প্রজাতির বুনো গাছের শাখা থেকে পাওয়া যায় দারুণ সুগন্ধি এই উপাদান। ক্যারিবিয়ান, সাউথ আমেরিকাসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় অঞ্চলে বেশ সহজলভ্য দারুচিনি। ইউরোপ এবং আমেরিকায় কালো গোলমরিচের পরেই দ্বিতীয় জনপ্রিয় মশলা হলো দারুচিনি।

প্রাচীনকাল থেকেই দারুণ এই প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। আমাদের দেশে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের রান্নায় ও চা তৈরিতে মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে দারুচিনি। কিন্তু আপনি জানেন কী, দারুচিনি বিভিন্ন ধরণের শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রেও ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়? দারুচিনির এমন চমৎকার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা তুলে ধরা হলো এখানে।

ইনফেকশন ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে

দারুচিনিতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাংগাল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদানসমূহ। এসব উপাদান শরীরে অসুস্থতার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুচিনি দারুণ উপকারী। প্রাকৃতিক এই উপাদান ইনফেকশন এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। এমনকি, কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে থাকে।

দারুচিনির এসেনশিয়াল অয়েলের রয়েছে রোগ-প্রতিরোধী ক্ষমতা। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, যে কোন ত্বকের সমস্যাতেও এই তেল দারুণ কার্যকরী।

ক্যান্ডিডা সারাতে ও প্রতিরোধে সাহায্য করে

প্রথমে জেনে নিন ক্যান্ডিডা (Candida) কী! ক্যান্ডিডা হলো ইষ্ট জাতীয় একটি প্যারাসিস্টিক ফাংগাস। যা ক্ষত তৈরি করে থাকে। এটা হয়ে থাকে পাকস্থলী ও অন্ত্রে। আগেই বলা হয়েছে দারুচিনি একটি অ্যান্টিফাংগাল উপাদান। যে কারণে দারুচিনি Candida albicans এর বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে থাকে। এর বৃদ্ধিতে হজমশক্তিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে পরে।

গবেষকেরা প্রমাণ করেছেন, দারুচিনি ও দারুচিনি তেল গ্রহণে ক্যান্ডিডা দেখা দেবার সম্ভবনা অন্যদের চাইতে অনেক কমে যায়। যাদের এই রোগ রয়েছে, তাদের সমস্যা আগের চাইতে অনেকটা ভালো হয়ে ওঠে।

অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে

যাদের অ্যালার্জি জনিত সমস্যা রয়েছে তারা জানেন এই সমস্যাটি কতোটা বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। আশার কথা হচ্ছে, কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, অ্যালার্জির সমস্যায় ভুক্তভোগী অনেকেই দারুচিনি গ্রহণে আরামবোধ করেন। যার প্রধান কারণ দারুচিনিতে রয়েছে প্রদাহ বিরোধী উপাদান সমূহ। যা শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং অস্বস্তি দূর করতে কাজ করে থাকে। এছাড়াও, শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতে দারুচিনি বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাহে।

ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে

কেন ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য দারুচিনি উপকারী? দারুচিনির অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান সমূহ ত্বককে ইনফেকশন, র‍্যাশ, অ্যালার্জির হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। কোন বিশেষ পদ্ধতি মেনে চলার প্রয়োজন নেই দারুচিনির তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে। সমস্যাযুক্ত স্থানে দারুচিনির তেল সরাসরি লাগালে প্রদাহ, ফোলাভাব, র‍্যাশ কমে যাবে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে

দারুচিনিকে যদি টুথপেষ্ট হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়ে থাকে তবে অনেকেই অবাক হবেন। কিন্তু দারুচিনির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের জন্য দারুচিনির গুঁড়ো দাঁত মাজার ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ করে থাকে। বিশেষত বাজারের অন্য যেকোন দাঁত মাজার টুথপেষ্ট কিংবা পাউডারের চেয়ে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, দারুচিনি মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে খুব ভালো কাজ করে থাকে।

যেহেতু আমরা সকলেই জানি, মুখের এই সকল ব্যাকটেরিয়ার ফলেই দুর্গন্ধ, দাঁতের ক্ষয়, মুখের ইনফেকশন সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরি হয়। ফলে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে দারুচিনি খুব ভালো কাজ করে থাকে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে।

দারুচিনি শুধুমাত্র একটি মশলা নয়, এটি এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ব্যবহার করা যেতে পারে প্রতিদিনের সুস্থতা রক্ষার্থেও। দারুচিনির গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারলে রোগ প্রতিরোধ করা খুব সহজ হয়ে উঠবে সকলের জন্যে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য