ভ্যাপসা গরম মানেই চুল আর ত্বক, দুইয়েরই দফা রফা! এরকম একটা আবহাওয়ায় ত্বকের সেবেশাস গ্ল্যান্ড অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চুল অসম্ভব তেলতেলে আর ন্যাতানো দেখায়। ফলে দু’ দিন অন্তর শ্যাম্পু করতেই হয়, কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে আবার চুলের গায়ে লেগে থাকা স্বাভাবিক তেলের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যায় এবং তা সামাল দিতে মাথার তেলের গ্রন্থিগুলো থেকে দ্বিগুণ পরিমাণে তেল ক্ষরিত হতে শুরু করে! ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুল আরও তেলতেলে, আরও ন্যাতানো দেখায়।

মানে শুধু শ্যাম্পু করেই চুলের তেলাভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, বরং প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাভাবিকভাবেই চুল ফুরফুরে করে রাখার চেষ্টা করতে হবে। জেনে নিন তেমনই কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতির হদিশ!

টি ট্রি অয়েল
কেরিয়ার অয়েলের সঙ্গে টি ট্রি মিশিয়ে লাগালে স্ক্যাল্পের সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হয়, খুসকিও কমে। তার জন্য যে কোনও কেরিয়ার অয়েলে 15 ফোঁটা টি ট্রি অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং এই মিশ্রণটা স্ক্যাল্প আর চুলে ভালোমতো মেখে অন্তত এক ঘণ্টা রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। টি ট্রি অয়েলে অ্যালার্জি না থাকলে এটি সরাসরি স্ক্যাল্পেও লাগাতে পারেন। সপ্তাহে দু’ থেকে তিনবার করলে চুলের তেলাভাব অনেক কেটে যাবে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
দু’ তিন টেবিলচামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার এক কাপ জলে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার চুলটা কোমল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোওয়া হয়ে গেলে অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের মিশ্রণটা চুলে ঢেলে দিন। কয়েক মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ফের একবার ধুয়ে নিলেই হল! অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের অ্যাসেটিক অ্যাসিড চুল আর স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখে।

নারকেল তেল
অল্প ভার্জিন কোকোনাট অয়েল হাতের তালুতে নিয়ে ঘষে নিয়ে মাথায় আর চুলে মেখে নিন। এক ঘণ্টা রেখে কোমল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে অন্তত একবার করতেই হবে। নারকেল তেল চুল তেলতেলে না করেও আর্দ্র আর ঝলমলে রাখে।

অ্যালো ভেরা
অ্যালো ভেরার পাতা চিরে টাটকা জেলটা বের করে নিন। এক-দু’ চাচামচ অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে এক টেবিলচামচ পাতিলেবুর রস মেশান। এবার তাতে এক কাপ জল ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই মিশ্রণটা চুলে আর মাথায় ঢেলে কয়েক মিনিট রেখে আর একবার ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। অ্যালো ভেরা সেবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, চুলও কোমল রাখে।

বেকিং সোডা
পরিমাণমতো বেকিং সোডা সারা মাথায় আর চুলে ছিটিয়ে দিন। তারপর ভালো করে চুলটা ব্রাশ করে নিতে হবে। চুলে বেকিং সোডা এভাবে লাগাতে ইচ্ছে না করলে তিন-চার টেবিলচামচ জলে গুলে সেই মিশ্রণটা ভেজা চুলে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেই হবে। শুকনো বেকিং সোডা ড্রাই শ্যাম্পুর মতো কাজ করে তেলাভাব নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভেজা চুলে বেকিং সোডার মিশ্রণ লাগালে মাথার পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকে, বাড়তি তেলভাবও শুষে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য