উজানের ঢলের কারণে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৩৫ সেমি (বিপদসীমা ৫২.৬০ সেমি) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে তিন্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে তিস্তা বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বাড়ায় জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫টি চর ও নি¤œাঞ্চলে আবারও পানি উঠেছে। পাশাপাশি উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

এর ফলে তিস্তা অববাহিকায় নুতন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র জানায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ১১ জুলাই তিস্তা বিপদসীমা অতিক্রম করে ও ১৩ জুলাই সেটা সর্বোচ্চ ৫০ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে।

১৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে বিপদসীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হলেও ১২ জুলাই থেকে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান বুধবার বিকেল থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে এবং সতর্কাবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকার জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তা নদীর বৃদ্ধির কারণে পুনরায় জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যা শুরু হলে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অপরদিকে উজানের পানি চাপে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের নতুন করে আরো দুইশ মিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য