আবারও বাড়তে শুরু করেছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি। ফলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে দু’ নদ-নদীর অবাহিকার নিম্নাঞ্চল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রে ফের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার শঙ্কায় আছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। পানি কমতে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধের রাস্তা থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন। তবে পানি বাড়তে শুরু করায় তারা শঙ্কায় আছেন।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় তার এলাকার চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে ফের পানি উঠতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরলেও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় আছেন তারা। পুনরায় বন্যা দেখা দিলে দুর্গতরা মানবিক বিপর্যয়ে পড়তে পারেন।

তবে নতুন করে বন্যার কোনও আশঙ্কা নেই জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, দু’দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছুটা বাড়বে। তবে শুক্রবার থেকে তা আবারও কমতে শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় প্রায় ৯ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় এখনও অনেকে উঁচু রাস্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বন্যার কারণে ১ হাজার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার সড়ক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য