পশ্চিম ইউরোপের শহরগুলো চলতি গ্রীষ্মেই দ্বিতীয় দফা দাবদাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে; এরই মধ্যে ফ্রান্সের বোর্দু শহরের তাপমাত্রা আগের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ শহরের তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ ‘মিতিও ফ্রান্সের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

এর আগে ২০০৩ সালে শহরটির তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল।

চলতি সপ্তাহের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বেলজিয়াম, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে আগের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইউরোপে দেখা দেওয়া এবারের দাবদাহগুলো ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ বহন করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এক মুখপাত্র।

“জুনে যেমনটা দেখেছি, এগুলো এখন ধারাবাহিকভাবে আসছে, তুলনামূলক আগেই যাত্রা শুরু করছে, তীব্রতাও বাড়ছে। চলে যাওয়ার জন্য আসা সমস্যা নয় এটি,” বলেছেন ক্লেয়ার নুলিস।

দাবদাহ মোকাবেলায় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে ফ্রান্সের বেশিরভাগ এলাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানী প্যারিসের তাপমাত্রা আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে মিতিও ফ্রান্স।

এখন পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়ে আছে।

ফ্রান্সে এবারের দাবদাহকে অনেকেই ২০০৩ সালের অগাস্টে হওয়া দাবদাহের সঙ্গেও তুলনা করছেন, সেবারের দাবদাহ দেশটির প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে বেলজিয়াম পুরো দেশে ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করেছে।

গত মাসে ভয়াবহ দাবানলের সাক্ষী স্পেনের জারাগোজা এলাকায় জারি হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’।

ইউরোপীয় কমিশনের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেইঞ্জ সার্ভিস দাবদাহ চলাকালে স্পেন ও পর্তুগালে দাবানলের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে।

নেদারল্যান্ডস সরকার তাদের ‘জাতীয় তাপমাত্রা পরিকল্পনা’ চালু করেছে। এবারের দাবদাহে যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রাও আগের সব রেকর্ড টপকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফরাসী জ্বালানি কোম্পানি ইডিএফ পারমাণবিক চুল্লি ঠাণ্ডা রাখতে ব্যবহৃত পানির তাপমাত্রার লাগাম টেনে ধরতে দক্ষিণাঞ্চলীয় তার্ন-এ-গেহোনা শহরের গলফেচ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‍দুটি চুল্লি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

‘অর্থনৈতিক কারণে’ স্থানীয় সময় বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পশু পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্সের সরকার।

ইউরোপজুড়ে গত মাসের তীব্র দাবদাহে ফ্রান্সের রেকর্ড তাপমাত্রার পাশাপাশি চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়া, অ্যান্ডোরা, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড এবং জার্মানিও ‘জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা’ দেখেছে।

দাবদাহের বিষয়টি প্রাকৃতিক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এত ঘনঘন দেখা দেওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

উনিশ শতকের শেষভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, শিল্লায়নের পর থেকে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১ ডিগ্রি পরিমাণ বেড়ে গেছে।

জার্মানির পোস্টড্যামের একটি জলবায়ু বিষয়ক ইনস্টিটিউ বলেছে, ১৫০০ সালের পর থেকে ইউরোপে হওয়া পাঁচটি উত্তপ্ত গ্রীষ্মকালের সবকটিই হয়েছে ২১ শতকে।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে সৃষ্ট উষ্ণতার প্রভাবে পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরাও উদ্বিগ্ন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য