বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বিরলে সাংবাদিকের ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দেয়ার পর বাবা-মা’র কাছে ফিরে গেল অজ্ঞানপার্টীর খপ্পরে পড়া কিশোরী ফিরোজা আক্তার (১৩)। সে ঠাকুরগাও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউপি’র নেকমরদ কাড়িয়া কালন্দ গ্রামের মহসীন আলীর কন্যা।

একই সাথে কিশোরী ফিরোজা নেকমরদ কারিগরি বানিজ্যিক মহা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী। কিশোরী ফিরোজা আক্তার জানায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিদ্যালয়ের পাশে প্রাইভেট পড়ে ৪ বান্ধবী মিলে নেকমরদ বাজারের একটি হোটেলে নাস্তা করে বিদ্যালয়ে যাবার উদ্দেশ্যে বের হয়। এ সময় বোরকা পড়া ২ জন ব্যাক্তি তাদের লক্ষ করে স্প্রে দেয়।

এতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। বাকী বান্ধবীদের কথা সে জানেনা। তার পর কি ভাবে সে বিরলে আসে এব্যপারেও সে কিছু বলতে পারেনা। বিরল শহরের কলেজ পাড়া এলাকার পারুল বালা জানান, বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে ওই কিশোরী আমাকে দেখে এগিয়ে এসে এটা কোন জায়গা বলে জিজ্ঞাস করে। আমি বলি বিরল। তার পর তাঁর নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সে কিছুই বলতে পারেনা।

বিষয়টি আমার কাছে সন্দেহের মনে হলে আমি তাঁকে সাথে করে পাশ্ববর্ত্তী মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি সুবল রায়ের বাড়ীতে নিয়ে যাই এবং সংবাদিকের স্ত্রী লতারাণীকে বিষয়টি অবগত করি। সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক সুবল রায় বাড়ীতে পৌঁছে মেয়েটির ছবি তুলি ফেসবুকে দেয়।

সাংবাদিক সুবল জানান, আমি কিশোরীর ছবি তুলে তার ঠিকানা ও পরিবারের সন্ধ্যান চেয়ে আমার ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট দেই এবং বিরল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জকে অবগত করি। পরে সাংবাদিকসহ অনেকে আমার পোষ্টটি সেয়ার করে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। ফলে কিশোরী ফিরোজা আক্তারের আত্মীয় স্বজনসহ তার পিতা আমার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ওই কিশোরী জ্ঞান ফিরে পেলে তাঁর নাম ঠিকানা ও পিতার মোবাইল নম্বর একটি কাগজে লিখে দেয় এবং ঘটনার বিষয় জানান।

রাত ১১ টার দিকে কিশোরী ফিরোজা আক্তারের পরিবারের লোকজন আমার বাড়ীতে পৌঁছে একে অপরকে সনাক্ত করে। বিরল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কিশোরী ফিরোজা আক্তার কে থানার মাধ্যমে তার পিতা-মাতার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য