কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। আর তাই বন্যায় ভাসছে কৃষকের স্বপ্নগুলোও। ক্ষতিগ্রস্থরা জানিয়েছেন বন্যার নিষ্ঠুর আচরণে তলিয়ে গেছে শাক-সবজি, আউশ ধান, বীজতলা, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষি ক্ষেত। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবারের বন্যায় আউশ ধান প্রায় ১ হাজার হেক্টর, বীজতলা ৫শ ২০ হেক্টর, সবজি ৩শ হেক্টর এবং আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে ১ হাজার ৫শ হেক্টর জমির পাটক্ষেত।

উপজেলার সাপখাওয়া, চর লুছনি, ওয়াপদাবাজার, বেরুবাড়ি, চর বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা, কালিগঞ্জ, ভিতরবন্দ, কচাকাট, কেদার, বল্লভেরখাষসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্ষেতের পানি কমলেও নষ্ট হয়েছে পুরো ক্ষেত। গাছগুলো মরে গিয়ে হলদে রং ধারণ করেছে।

সরেজমিনে বেরুবাড়ি ইউনিয়নের গাছপাড়ি এলাকার কৃষক মজাহার আলী জানায় তিনি দের বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। সবজির মধ্যে রয়েছে করলা, শষা ও জালি কুমড়ো। খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। সবেমাত্র ফুল এসেছে এবং ফলনও শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এসব সবজি তুলে বিক্রি করতো বাজারে।

এতে করে খরচ পুষিয়ে তার লাভ হতো ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বিগত বছরেও তিনি একইভাবে ৮০ হাজার টাকা আয় করেছেন এই ক্ষেত থেকেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য বন্যার পানিতেই ভেসে গেছে এই কৃষকের স্বপ্ন। তিনি বলেন সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বা কৃষি ভর্তুকী দিলে কিছুটা হলেও এ ক্ষতি পুষিয়ে পরবর্তীতে আবারও সবজি চাষ করতাম।

কৃষিতে এত ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়েছে সবজিবাজারে। দাম বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় কাচামালের। সাপখাওয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানায় বন্যায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বেগুন, করলা, শষা, ঢেঁড়সসহ প্রায় সব সবজিতেই কেজি প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। নাগেশ্বরী পৌর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে কাঁচা মরিচ পাননি বাবলু মিয়া। সবজি ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জানায় বন্যার কারণে মরিচ পাওয়া যায় না, পেলেও কিনতেও বেশি দামে কিনি এবং পরিবহন খরচও বেশি তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়।

এদিকে কৃষিক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। তাদের দাবি সরকারিভাবে কৃষি ভর্তুকী দিলে কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন কৃষি ভর্তুকীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। পেলে জানানো হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য