দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রকল্প থেকে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকার কয়লা চুরি যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করে দুদক ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে।

দিনাজপুর সমন্বিত দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, দুদক সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুল আলম এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় দুদক কার্যালয়ে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সাক্ষ্য স্মারকলিপির পেশ করলে অনুমোদন হয়।

এই কার্যালয়ের অভিযোগপত্র নং-১, তারিখ ২২.৭.১৯ইং মুলে ২৩ জন কর্মকর্তাকে আসামীর তালিকাভুক্ত করে অভিযোগপত্র দুদক সদর দপ্তর অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত চার্জশীট আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পেশ করা হবে। চার্জশীট আদালতে পেশ হলেই মামলাটি বিচারের জন্য সিনিয়র স্পেশাল জজ দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ হবে।

সূত্রটি জানায়, এই মামলাটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হওয়ায় দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুল আলম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত কাজ চালিয়েছেন। তার তদন্ত টিমে দুদকের আরও ৫ জন কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। এদের মধ্যে দিনাজপুর সমন্বিত দুদক জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশ সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারের জন্য চার্জশীট প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার ওই চার্জশীট আদালতে পেশ করা হবে।

অভিযোগপত্রের তালিকায় রয়েছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পের সাবেক ৭ জন এমডিসহ ২৩ জন আসামী। এরা হলেন সাবেক এমডি মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশিদ আলম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মোঃ আনিসুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহমেদ।

এছাড়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শরিফুল আলম, মোঃ আবুল কাশেম প্রধানিয়া, আবু তাহের মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদা, মোঃ আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ মোর্শেদুজ্জামান, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ জাহিদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সতেন্ত্র নাথ বর্মন, মোঃ মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক মোঃ সোহেবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম খাদেমুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হাওলাদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ জোবায়ের আলী আসামী রয়েছেন।

মামলার এজাহারে ১৪ জন আসামী ছিল। তদন্তে ৯ জনের নাম যুক্ত হওয়ায় এজাহারনামীয় ৫ জনকে আসামী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। চার্জশীটে যাদের অব্যাহতি দেয়া হয় তারা হলেন, ব্যবস্থাপক মোঃ মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক একরামুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র সাহা।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এই ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানীর ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত বছর ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দুদকের তফশীলভুক্ত হওয়ায় দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুর পুলিশ কোর্ট পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কোন আসামী জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করেনি। মামলাটি আগামী ২০ আগষ্ট দিন ধার্য রয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিল হলে মামলাটি বিচারকের নিকট পরবর্তী আদেশের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য