দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিরলে কোন রকম কীটনাশক ছাড়াই নিরাপদ সবজি লতিরাজ জাতের লতিকচুর চাষ করে কৃষক লাভবান হওয়ায় লতিরাজ কচু চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়ে গেছে। ছয় মাস মেয়াদী এ সবজি লতিরাজ কচু চাষ করে লাভবান হয়েছেন লতিকচু চাষী বিলাস চন্দ্র সরকার।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের দক্ষিন গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক বিলাস চন্দ্র সরকারকে নিরাপদ সবজি লতিরাজ কচু আবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবার রহমানের পরামর্শে বিলাস চন্দ্র সরকারের পরিত্যক্ত ১০ থেকে শতক জমিতে লতিরাজ কচু আবাদ করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁকে জয়পুর হাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা থেকে লতিরাজ কচুর চারা সংগ্রহ করে দেওয়া হয়।

গত বছরের জুলাই মাসে ওই চারা রোপন করেন চাষী বিলাস চন্দ্র সরকার। চারা রোপনের দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে নিরাপদ সবজি লতিরাজ কচুর লতি বাজারজাতও শুরু করা হয়। নিরাপদ সবজি লতিরাজ কচু আবাদে কোন রকম কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র পরিচর্যা করেই স্বল্প খরচে বেশি লাভ করা সম্ভব বলেও জানান। বাজারজাতেও নেই কোন ঝামেলা। স্থানীয় বাজারে লতিরাজ কচুর ব্যপক চাহিদাও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবার রহমান বলেন, নিরাপদ সবজি লতিরাজ জাতের লতিকচু চাষি বিলাস চন্দ্র সরকারের ১২ শতক জমিতে লতিরাজ কচু চাষে মাত্র ৩৫০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি কচুর লতি বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ হাজার টাকার মত। নিরাপদ সবজি লতিরাজ আবাদে স্বল খরচে বেশি লাভ হওয়ায় বিলাস চন্দ্র সরকারের মতো অনেক কৃষক লতিরাজ কচু আবাদে আগ্রহি হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যে বিলাস চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে প্রতি লতিরাজ কচুর চারা ১ টাকা হিসেবে ৬০০০ লতিরাজ চারা সংগ্রহ করে একই উপজেলার ভান্ডারা ইউনিয়নের দক্ষিন ভান্ডারা মহিলা সিআইজি দলে কৃষক ছায়া রাণী ৩৩ শতক জমিতে লতিরাজ জাতের লতিকচুর চাষ করেছে। তিনিও ইতিমধ্যে কচুর লতি বাজারজাত শুরু করেছেন। ৩৩ শতক জমিতে লতিকচু আবাদে তাঁর সর্বোচ্চ খরচ হবে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো। তিনি ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার মতো কচুর লতি ও কচু বিক্রি করতে পারবেন বলেও কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবার রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

লতিরাজ কচু বিক্রি করছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। দিনাজপুরের বাহাদুর বাজারে ওই লতি কচু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। লতি ছাড়া হয়ে গেলে পরবর্তীতে লতিরাজ কচু (কাঠ কচু) হিসেবে প্রতিটি কচু বিক্রি হবে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন চাষীর মাঝে নিরাপদ সবজি লতিরাজ কচুর চারা বিতরন করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য