২০জুলাই শনিবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নাজিমখান স্কুল এ- কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ অগ্নিসংযোগ ও রাস্তা অবরোধ করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে নাজিমখান-রাজারহাট সড়কে ৩ঘন্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, নাজিমখান স্কুল এ- কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে সঠিক নিয়মে পাঠদান হয় না। এমনকি কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের প্রজেক্টর মডেমসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য বরাদ্দ ১লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৭বছরে পুকুর লিজ-জমির আবাদসহ কলেজের ৫০লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের বানিজ্য বিভাগ বিলুপ্ত করে রসায়ন, পদার্থ ও উচ্চতর গণিত শাখায় পাঠদান হয় না দীর্ঘদিন যাবত। শ্রেণি শিক্ষকরা বিনা ছুটিতে মাসের বেশীর ভাগ সময় অনুপস্থিত থাকে। কলেজের ওই অধ্যক্ষ ৬মাসের ভারপ্রাপ্ত হয়ে থাকার কথা থাকলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে ৭বছর ধরে ওই পদটি আগলে রেখেছেন। এ সুবাদে তিনি এডহক কমিটি দিয়ে ৭বছর ধরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে অনিয়ম-দূর্নীতি মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এসব কারণে শিক্ষার্থীরা ২০জুলাই শনিবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ ভাংচুর করে নাজিমখান বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নাজিমখান-রাজারহাট সড়ক অবরোধের পর অগ্নিসংযোগ করে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী করে। খবর পেয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার কর্মকর্তা ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

পরে স্কুল পরিচালনা কমিটি-ইউএনও ও ওসিসহ রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার পদ থেকে আগামি ২০আগষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশসহ ইস্তেফাপত্র পরিচালনা কমিটির কাছে হস্তান্তর করার জন্য লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।

থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আগামি ২০আগষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশ বুঝে দিয়ে ইস্তেফাপত্র দিবেন। এ ছাড়া নিয়মিত ক্লাসের জন্য রুটিন করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য