মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ময়লার ভাগাড়‌ে অতিষ্ট হয়‌ে উঠেছেন এলাকাবাসী। আবর্জনার দুর্গন্ধে শহর‌ে চলাচল কষ্টকর হয়‌ে উঠ‌েছে।

শহরের টিকাপাড়া-জমিদারপাড়া মহল্লার মুল রাস্তার উপরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে ওই এলাকার মানুষজন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না। এছাড়াও শহরের কালিবাড়ি-সত্যপীর ব্রীজ যাওয়ার রাস্তা, হাজীপাড়া বড় মাঠ থেকে মহিলা কলেজে যাওয়ার রাস্তায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে অতীষ্ঠ সাধারণ মানুষজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় টিকপাড়া মহল্লার সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেষে মূল রাস্তার উপরে দীর্ঘ ৬/৭ দিন থেকে ময়লা-আবর্জনার বড় স্তুপ তৈরী হয়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ দুষিত করছে। এই রাস্তা দিয়ে পৌরসভার টিকাপাড়া, গোয়ালপাড়া, বসিরপাড়া, সেনুয়াপাড়া, বরুনাগাঁওসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ যাতায়াত করে।

বিশেষ করে এসব এলাকার প্রায় সহসাধ্রিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ রাস্তার উপর দিয়েই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়। বিশেষ করে সি,এম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, সালেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ, ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, আদালত, সদর থানা, জেলখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালত-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার রাস্তা এটি। বিশেষ করে দুর্গন্ধের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। একই অবস্থা কালিবাড়ি-সত্যপীর ব্রীজ যাওয়ার রাস্তা ও হাজীপাড়া বড়মাঠ-মহিলা কলেজ যাওয়ার রাস্তায়ও।

শহরের জমিদারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নয়ন ইসলাম জানান, ইতিপূর্বে একটি বেসরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা জমিয়ে এখানে ১ দিন রাখা হতো। পরে পৌরসভার গাড়ি এসে পরের দিন সকালে ময়লা সরিয়ে নিত। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে ৬/৭ দিন পেরিয়ে গেলেও ময়লা আবর্জনা সরানোর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি পৌরসভা। ফলে দুর্গন্ধে এ এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে।

টিকাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হাসান আলী জানান, রাস্তার উপরে ময়লা-আবর্জনা বেশ কয়েকদিন থেকে জমে দুর্গন্ধে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। বিশেষ করে ওই ময়লা-আবর্জনা ড্রেনের মধ্যে ফেলে ড্রেনও বন্ধ হওয়ায় পানি রাস্তার উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মুসল্লিরা সমস্যায় পড়ছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়ালিউর রহমান ওলি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক মানুষ আমাকে অভিযোগ করেছে; আমি বিষয়টি মেয়রকে জানিয়েছি। ময়লা-আবর্জনার স্তুপ সরানো এবং বন্ধ ড্রেনগুলির পরিস্কার করে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর নাজিরা আক্তার স্বপ্না বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে পৌরসভার কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে। ওদের সংগঠনের পক্ষে কর্মসূচী পালন করতে ঢাকায় গেছেন তারা। হয়তো চলে আসবে; আসার পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে আগামীকাল রোববার বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলবো।

সবকিছু মিলিয়ে ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারন ও বন্ধ ড্রেনগুলি থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পানি নিস্কাসনে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন করবে পৌর কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবি পৌরবাসীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য