জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরের হাট বাজারগুলো চাষাবাদ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ পিরানহা মাছে সয়লাব হয়ে গেছে। চলমান মৎস্য সপ্তাহেও রূপচাঁদা নামে দেদারছে বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসের কোন প্রকার তদারকি না থাকায় দিন দিন নিষিদ্ধ এ মাছের বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে সাধারণ জনগণ রূপচাঁদা মাছ মনে করে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত মাছটি অবলিলায় খাচ্ছেন। এর ফলে তারা অজান্তেই চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত হচ্ছে। যা একসময় চরম প্রকট অবস্থার সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর পৌর এলাকার প্রধান দু’টি মাছ বাজার সহ গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারগুলোতে পিরানহা মাছটি রূপচাঁদা মাছ হিসেবে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

অথচ এ মাছটির ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সরকারীভাবে আইন করে পিরানহা মাছ চাষ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ এ মাছটি যাতে কেউ চাষ বা বিক্রয় করতে না পারে তা তদারকির দায়িত্ব রয়েছে মৎস্য বিভাগের। কিন্তু নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য অফিস এ ব্যাপারে নির্বিকার থাকায় ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

সৈয়দপুর শহরের মাছ ব্যবসায়ী মংরু জানান, আমরা জানি মাছটি বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু তার পরও এ মাছটি বিক্রির ব্যাপারে মৎস্য অফিস থেকে কোন বাধা না থাকায় বিক্রি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যবসায়ী জানান, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই পিরানহা মাছ রূপচাঁদা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া এ নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কোন প্রকার মনিটরিং না থাকায় মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে কোন সচেতনতা নেই। গত ১৭ জুলাই থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে বিষয়ে জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এ ব্যাপারে কোন কিছুই জানা নেই তাদের। কর্তৃপক্ষ কোন তথ্যই জানাইনি।

তারা এসময় অভিযোগ করে বলেন, মৎস্য অফিসের লোকজন কোন অনুষ্ঠানেই আমাদের ডাকেনা। মাঠ পর্যায়ে তাদের কোন কর্মকান্ডই আমরা দেখিনা। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হলেও তা উপজেলা তথা অফিস পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। মাছ চাষী, ব্যবসায়ী বা সাধারণ জনগণ কেউই জানেন না।

কেননা যত রকম প্রচার প্রচারণা ও অনুষ্ঠান হয় তা শুধুমাত্র উপজেলা চত্বরেই হয়ে থাকে। পুরো উপজেলাবাসী দূরের কথা শহরের লোকজনও বিন্দুমাত্র জানতে পারেন না। তাছাড়া এ মাছগুলো নিষিদ্ধ হলে তা আমদানী হচ্ছে কীভাবে? এমন প্রশ্নও ছুড়ে দেন তারা।

এ নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সানী খান মজলিশের সাথে। তিনি জানান, বিষয়টি আমি দেখছি। কোথাও যদি নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি করা হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি জানান, মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। আপনারা অফিসে আসলে ভালো হয়। অথচ তিনি গুটি কয়েক সাংবাদিককে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও তাতে অধিকাংশ সাংবাদিকদের ডাকা হয়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন এ ব্যাপারে জানান, তিনি পিরানহা মাছ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

উপজেলার ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল হক সোহেল জানান, পিরানহা মাছটি নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত। এটি খাওয়া তো দূরের কথা কোন কারণে কামড় দিলেও তা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। এ মাছ খেলে নিরাময় অযোগ্য বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার সরকার জানান, মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে অভিযান চলমান রয়েছে। এ ধরণের কোন নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য