কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় জন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি ৭ সে.মি.হ্রাস পেয়ে বর্তমানে বিপদ সীমার ১২৫সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে অন্তত ৩-৪ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির স্রোতে একটি ব্রিজ ও একটি রাস্তা ধসে গিয়ে নতুন করে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে মোট ৩০হাজার ৯৩৯টি পরিবারের শত ভাগই পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

দূর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারিভাবে ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় সবার ভাগ্যে এখনও ত্রাণ জোটেনি। ফলে বন্যা দুর্গত মানুষরা এখন চরম সংকটে রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে তাদের স্ব-স্ব ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়ীতে পানি ওঠায় বানভাসী মানুষরা পরিবার পরিজন ও গরু,ছাগল নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল ব্যাপারীরহাট রাস্তার মাঝিপাড়া এলাকায় ধস দেখা দিলে ¯্রােতের বেগে প্রায় ৩৫টি পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আরও অন্তত ২০টি বাড়ী।

অপরদিকে থানাহাট ইউনিয়নের ব্যাপারীরহাট এলাকার রাজারঘাট ব্রিজের দুই পাশ্ব ধসে গিয়ে ৪টি দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং উপজেলা শহরের সাথে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের যোগাগোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উপজেলার শতভাগ বাড়ীতে পানি উঠে পড়ায় বানভাসী শত শত মানুষ উচুতে আশ্রয়ের জন্য আত্মিয় স্বজনের বাড়ীর উদ্দেশ্যে পারি জমানোর দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু জানান,তার ইউনিয়নে পানি বন্দি রয়েছে ৫ হাজার ৪০৪ পরিবার অথচ তিনি ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৯.৮মেঃটন চাল। যা ৯৮০ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন। তিনি আরও জানান,বন্যার্তদের জন্য যা ত্রাণ পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্ন। রমনা ইউপি চেয়ারম্যান আজগার আলী সরকার বলেন,তার ইউনিয়নে পানি বন্দি হয়ে পড়া ৭হাজার ১৮৩ পরিবারের জন্য ত্রাণের বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৯.৮মে.টন চাল যা ৯৮০পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

গোটা উপজেলায় ৩০হাজার ৯৩৯ পরিবার পানি বন্দি থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যমতে সরকারী ভাবে এখন পর্যন্ত ৬০ মেঃটন চাল বরাদ্দ পেয়ে তা মোট ৬হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সে মোতাবেক এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪হাজার পরিবারের ভাগ্যে এখনও ত্রাণ জোটেনি।ফলে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণের (বিশেষ করে শুকনা খাবার) জন্য হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য