আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের ৩,৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থিত সেতুরটি কাজ বন্ধ রাখায় নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে বছরের বার মাসই স্কুলে আসা-যাওয়া করছে হাজারো শিক্ষার্থীরা। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসার একমাত্র বাহন নৌকা। সামান্য ঢেউয়ে নৌকা উল্টে যাওয়ার শঙ্কা আছে তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার খোলা নৌকায় তীব্র রোদের তাপও সহ্য করতে হয় তাদের। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে তারা।

স্থানীয় বাসীন্দরা জানান, গত ২০১৭ সালে বন্যায় সেতু ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া অবস্থায় দীর্ঘদিন অত্র ইউনিয়নের লোকজন যাতায়াত করে আসছে। পরে ২০১৮ সালে সেতুটি নির্মানের বরাদ্দ হলেও আজবদি সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে নানান টালবাহানা করে আসছে। ফলে চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

পাঠানবাড়ি, পূর্ব সিন্দুর্না, দক্ষিণ সিন্দুর্না, উত্তর সিন্দুর্না, হলদিবাড়ি, চর সিন্দুর্না গ্রাম গুলোর চলাচলের একমাত্র সেতু এটি। গ্রামের প্রায় ২০ হাজার গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। ওই সব গ্রামের স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়তে সমস্যায় পড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের কৃষি পণ্য নৌকায় করে পারাপার করছে।

লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী জাকিয়া খাতুন বলে, ‘সেতুর সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়ত করছি।”

সিন্দুর্না ইউনিয়নের পাঠানবাড়ি এলাকার আলিমুদ্দিন কলেজের প্রভাষক গোলজান আলম খান জানান, ‘সেতুটি ভেঙ্গে যাওযায় ঠিক মত কলেজে গিয়ে পাঠদানের ব্যাঘাত ঘটতে, সেই সাথে অত্র ইউনিয়নের যে সকল ছাত্রছাত্রী কলেজে পড়ালেখা করছে তাদেরও ক্লাসে ঠিকমত যেতে পারছে না, তাই আমাদের দাবী সেতুটির কাজ শেষ করে অত্র এলাকার ভোগান্তি দুর করা।

অত্র এলাকার একজন ভ্যান চালক বলেন, আমরা মালামাল নিয়ে দুরদুরান্তে যেতে পারছি না। বর্তমানে দুরের ভাড়া পাচ্ছি না, গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাড়ী না চালালে আমরা খাব কী।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে দৈনিক অধিকার কে বলেন, সেতুটির জন্য বাইপাস রাস্তার বরাদ্দ দেয়া আছে, কিন্তু কেমন সেটা করে দেয়া হচ্ছে না-তা আমার জানানেই। আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে বার বার বলার পরও তিনি বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেতুটির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইপাস রাস্তার বা সেতুর বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ঠিকারদারকে বার বার বলা সত্বেও তিনি কোন ভাবেই সেটি করে দিচ্ছেন না।

বিষয়টি নিয়ে লালমনিরহাট এ্যাক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এ.কে এম আমিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি সরে জমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য