নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৮০ গ্রামের বাসিন্দাগণ বর্ষাকালে অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অসহায়, ভূমিহীন ও হতদরিদ্র বাসিন্দাদের ঘরগুলো সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাথা গোজার ঠাঁই ঘরের ছাউনির টিনগুলো বিনষ্ট হওয়ায় বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ঘাটেরপাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ৮০ গ্রাম নামে পরিচিত। ওই ইউনিয়নের ভুমিহীন, অসহায় দরিদ্র ও গৃহহীন ৮০টি পরিবার সেখানে বসবাস করেন। নির্মাণের পর থেকে ঘরগুলো সংস্কার না করায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ঘরের ছাউনির টিন বিনষ্ট হওয়ায় ৩৫টি পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে ৪৫টি পরিবার বসত ঘরের ওপর খড় ও পলিথিন দিয়ে বর্ষায় অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাহাগিলি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৮০ গ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থা বেহাল। বসবাসের ঘরগুলোর ছাউনির টিন মরিচা ধরে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। টিনের ঘরের ওপরে অনেকে পলিথিন ও খড় দিয়ে বৃষ্টির পানি আটকানোর চেষ্টা করছে। বসবাসের সম্পূর্ণ অনুযোগী হয়ে পড়েছে প্রকল্পের ঘরগুলো। স্যানিটেশনের জন্য যৌথভাবে নির্মিত ল্যাট্রিন গুলো অকেজো অবস্থায় পরিত্যক্ত রয়েছে।

বিকল হয়েছে ১০টি পরিবারের জন্য দেয়া ১টি করে টিউবয়েল। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮০টি পরিবারের অন্তহীন দুর্ভোগের কারণে ৩৫টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হাছেন আলীর কন্যা ৭ম শ্রেণির ছাত্রী হাসিনা আক্তার ও ৩য় শ্রেণির ছাত্রী সম্পা আক্তার জানান, ঘরের ছাউনির টিন নষ্ট হওয়ায় রাতে বৃষ্টি এলে পলিথিন দিয়ে বই ঢেকে রাখতে হয়। বই ভিজে গেলে পরদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

মোবারক আলী (৭০), ফরিজোন বেওয়া (৫৫) ও অজিফা বেগম (৫০) দুঃখ প্রকাশ করে জানান, অভাবের কারণে প্রায় ২০ বছর আগে যখন আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসেছিলাম তখন মনে হয়েছিল আমাদের দুঃখের দিন শেষ। কিন্তু বর্তমানে ছাউনির টিনগুলো বিনষ্ট হওয়ায় বৃষ্টি এলে ঘরে থাকা যায়না। নেই কোন সরকারী বে-সরকারী সুযোগ সুবিধা। রাতে বৃষ্টির সময় ঘুম থেকে ওঠে মাথার ওপর পলিথিন ধরে বসে থাকতে হয়।

আমাদের ঘরের টিনের ছাউনিগুলো ভালো করে দেন। না হলে আমাদেরকেও অন্যত্র কোথাও চলে যেতে হবে। এত কষ্ট করে আর এখানে থাকা যায়না। ওই আশ্রয়ণ প্রকল্প কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান (৬৫) জানান, বসত ঘরগুলোর টিনের ওপর লোহার এঙ্গেল দেয়ায় পানি আটকে মরিচা ধরায় বিনষ্ট হয়েছে। সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপোযোগী হওয়ায় অনেকে অন্যত্র চলে গেছে।

সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতঘর গুলো ব্যারাক আকারে করায় দুই-চার বান্ডিল ঢেউটিন দিয়ে মেরামত সম্ভব নয়। ব্যায় সাপেক্ষ হওয়ায় সম্পূর্ণ আশ্রয়ণ স্থানীয় ভাবে সংস্কার করা টাপ। তার পরেও আমার তরফ থেকে চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। বরাদ্দ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য