আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাটঃ তিস্তা নদীর পানি কমায় লালমনিরহাটে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার সকালে তা কমে ১০ সেন্টিমিটারে নেমে এসেছে। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে ধরলা ও রতনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ৮দিনের ভারী বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেয়ে আসছে পানির স্রোত। এতে বড় সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও প্রতিবন্ধীরা। চারদিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশুপাখি নিয়ে অনেকটা বিপদে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

৪দিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

এদিকে পানিবন্দি পরিবারগুলো এখনও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্য পায়নি। জেলার লক্ষাধিক পরিবার এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পরিবারগুলোর মাঝে এখনও কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছায়নি। পরিবারগুলো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রাম, শিবেরকুঠি, চর শিবেরকুঠি, বোয়ালমারী চর ও আলোকদীঘি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করছে। বর্তমানে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য