আমেরিকার ইতিহাসে নিজেদের অশুভ লক্ষ্য হাসিলের জন্য তারাই অন্য দেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ইরানসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গতকাল (সোমবার) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। এই প্রস্তাবের খসড়ায় ভেনিজুয়েলা ও ফিলিস্তিনকে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ২৮ ভোট এবং বিপক্ষে ১৪টি ভোট পড়ে। এ ছাড়া পাঁচটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাব পাশের পর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এ প্রস্তাবের প্রতি মানবাধিকার পরিষদের সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, “এটি এমন এক বিজয় যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিস্তারের সুযোগ এনে দেয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ দেশ মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”

রাজনৈতিক, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এমনকি মানবাধিকারসহ যে কোনো অজুহাতে আমেরিকা বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে নিজের স্বার্থ আদায় এবং অন্য দেশকে নতজানু করার জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা একমাত্র কার্যকর পন্থা। মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েস মিচেল বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার কৌশলগত হাতিয়া এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে মোট ৪১৯০টি নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকার বর্তমান সরকার নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার করে শুধু যে অন্য দেশের বৈধ সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে তাই নয় একইসঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে নতজানু করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া বিশ্ব অর্থ বাজারে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাও আমেরিকার আরেকটি উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ প্রতিবেদক আদ্রিস জাজায়েরি গত মে মাসে বলেছেন, “কিউবা, ভেনিজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা মানবাধিকার পরিষদের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

আমেরিকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই তিনটি দেশের সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া শুরু করে। ওয়াশিংটন ২০১৭ সালে ভেনিজুয়েলার ১৫০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটির বামপন্থী সরকারকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে তেলসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুমকি দিয়েছেন।

যাইহোক, বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ভোটাভুটিই এর প্রমাণ। এ অবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্বের দেশগুলোর আরো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য