মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে আকষ্মিক ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে ও ভেঙ্গে গেছে। আটোয়ারীতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাত চলাকালীন ১৩ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় দশটার দিকে উপজেলার কিছু এলাকা দিয়ে আকষ্মিকভাবে বৃষ্টি সহ প্রচন্ড বেগে ঘুর্ণিঝড় বয়ে যায়। এতে ক্ষনিকের বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়।

এ ঝড়ে হাজার হাজার গাছপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে যায় এবং বৈদ্যুতিক খুটি সহ বৈদ্যুতিক তার ছিন্নভিন্ন হয়ে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। আটোয়ারী সদরে প্রায় ২৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এসময় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যাও ছিল প্রকট।

উপজেলার ধামোর, মির্জাপুর ও তোড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা ও আটোয়ারী হতে পঞ্চগড়গামী পাকা সড়কে গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ার কারনে ওইদিন রাত ১০টা হতে পরদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত সকল প্রকার যানবাহনের যাতায়াত বন্ধ ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরদিন ১৪ জুলাই সকালে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ব্যস্ততম রাস্তার গাছ সরানোর ব্যবস্থা করেন।

১৫ জুলাই সকালে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় শুকনো খাবার নিয়ে উপস্থিত হন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের সময় জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জনপ্রতিনিীধরা জানান, ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার মির্জাপুর ও ধামোর ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঝড়ে অনেকের বিল্ডিং ঘরের ওয়াল ভেঙ্গে গেছে আবার অনেকের পাকা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়েছে। উপজেলার ডাংগীর হাট উচ্চ বিদ্যালয় ও উপকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় ঝড়ে দুমড়ে-মুচরে পড়ে যায়। মির্জাপুরের খালপাড়ার বেশকিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার পরিবেশ নেই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাসমুহে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য