আজাদ জয়ঃ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা যারা উত্তরবঙ্গের মানুষ তাদের জন্য আজ এক বিরাট শোকের দিন। উত্তরের জনপদ গুলোকে উন্নয়ন ও আলোর পথ দেখানো মানুষটি আজ (১৪/০৭/১৯) না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

রাজনৈতিক কারনে অনেকের কাছে কথাটা হয়তো ভাল লাগবে না, বা পছন্দ হবে না। কারন প্রজন্মের অধিকাংশই তার অবদান সম্পর্কে অবগত না। তবে উত্তরের জনপদের সাধারন মানুষেজনের কাছে খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন ততকালিন রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে কৃষি, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যবস্থায় উত্তরবঙ্গের মানুষ সেই সময় এক সুবর্ণ মুহুর্ত অতিক্রম করেছে। সে সময় উত্তরবঙ্গে এরশাদের পরিকল্পনায় তৈরি নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভাট এখনও দৃশ্যমান। তার প্রতিষ্ঠিত নির্মান গুলো কোন কোন স্থানে অযত্ন অবহেলায় মলিন আবার কোথাও কোথাও এখনও সংস্কারের প্রয়োজন হয়নি।

তবে নির্মানের কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও যে গুলো সংস্কারের দ্বায়ীত্ব রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দিতার কারনে এখনও কোন সরকার ঠিকমত মাথা পেতে নিতে পারেনি। তিনি না থাকলে আজও হয়তো অজপাড়া-গা হয়ে থাকতো আমাদের রংপুর বিভাগের আট জেলা সহ রাজশাহির বিভাগের অনেকটা অংশ।

ইসলাম ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা দেশের ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো যারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সৈরাচার সরকার বলে অবজ্ঞা করে তারা কি করে অস্বিকার করে বাংলাদেশ আজ একটি প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র তার অবদানের কারনে। তিনি বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্র, প্রকাশ্য মদ্য পান ও বিক্রী বন্ধ এবং শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটা ঘোষনা করেছিলেন।

ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের মানুষের যোগাযোগ সুবিধার্থে বিশ্বরোড নির্মান কাজ শুরু এবং বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা ব্রিজ) তৈরির পরিকল্পনা গ্রহন করেন। ব্রিজের খরচ যোগাতে তিনি সে সময় দুই টাকার লটারি টিকিট চালু করেছিলেন। এছাড়া মহকুমা থেকে জেলা, থানা থেকে উপজেলা, গুচ্ছগ্রাম, পাট ও আলু প্রকল্প, মৎস প্রকল্প, ধান, গম, কলাসহ কৃষিক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। যার কারনে রংপুর অঞ্চলের মানুষকে আর কখনও না থেয়ে থাকতে হয়নি।

দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত হাজী দানেশ কৃষি কলেজ, কাঞ্চনব্রীজ, ছোট বড় অসংখ্য বেইলি ব্রিজ, রাস্তাঘাট, হাট বাজার প্রতিষ্ঠায় তিনি সরাসরি ভুমিকা পালন করেন। যেগুলো এখনও দিনাজপুরের মানুষকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। মোট কথা তিনি আমাদের উত্তর জনপদের মানুষদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন, যা বহু যুগ এই জনপদের মানুষ মনে রাখবে। এখন যে উন্নয়ন হয় না তা নয়, তবে কোন কিছুই আর স্থায়ী নয়।

রাজনৈতিক মারপ্যাচে পরাজিত হয়ে স্বৈরাচার শাসক উপাধি নিয়েও উত্তরের মানুষের জন্য লড়াই করে যাওয়া একজন প্রকৃত উত্তরবঙ্গ প্রেমি মানুষকে আজ আমরা চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললাম। আমাদের জন্য তিনি কখনই সৈরশাসক ছিলেন না, তিনি একজন মাটি ও মানুষের নেতা, পল্লীবন্ধু ও প্রকৃত নায়ক ছিলেন। উত্তরবঙ্গের মানুষের দোয়া আজীবন তার বিদেহী আত্মার সাথে থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য