গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে রংপুরের তিন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের ৪০টি গ্রাম হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, অবিরাম বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি গত চার দিন ধরে বাড়ছে। তবে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে শুক্রবার দুপুর থেকে। তিনি জানান, আজ শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান জানিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম জানিয়েছেন, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইছলিগ্রামে তিস্তা নদীর পানির তোড়ে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে চারটি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ সড়ক পথে উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেতে পারছেন না। গ্রামগুলো হচ্ছে পূর্ব ইছলী, পশ্চিম ইছলি, শংকরদাহ এবং বাগেরহাট। তিনি আরও জানান, শুক্রবার বেশকিছু এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সালাম জানান, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ১০ একর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছে। তাদের উদ্ধার করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহলী, কচুয়া, আলমবিদিতর, গঙ্গাচড়া সদর এবং কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর, সদর ও পীরগাছা উপজেলার ছাওলা এবং তাম্বুলপুর এই কয়েকটি ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। এতে করে রবি শষ্যসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য