নীলফামারীতে তিস্তা অববাহিকায় গতকাল শুক্রবার রাত হতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। উজানের ধেয়ে আসা ঢলে প্রচন্ড স্রোতে কাঁপছে তিস্তাপাড়। আজ শনিবার সকাল ৯ টায় তিস্তা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সকাল ৯ টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তা অববাহিকায় গতকাল শুক্রবার রাতেই রেড এলার্ট জারি করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তাপাড়ের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাতব্যাপী মাইকিং করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সময়ের সাথে সাথে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৮টি চর গ্রামের ২০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের সুত্রমতে, তিস্তা নদীর বন্যা ভয়াবহ ধারণ করায় নদীর চর গ্রামে বসবাসকৃত পরিবারের সদস্যদের সরকারি নৌকায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।

সব ইউপি চেয়ারম্যান তিস্তার উজান ও ভাটিতে নদীর ভেতরে বসবাস পরিবারগুলো নিরাপদ ও উঁচু স্থানে নিয়ে আসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শুকনো খাবার প্রস্তুত করেছে। জেলা প্রমাসকের কার্যালয় হতে তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কাবস্থায় রয়েছে জেলা প্রশাসন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র তিস্তায় ভয়াবহ বন্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ ও ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পায়। সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু শুক্রবার রাত ৯ টায় আরও ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে গিয়ে ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। আজ শনিবার সকাল ৯ টায় ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

এর ফলে রাতেই রেড এলার্ট জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট। ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২০ টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবী বর্তমানে তিস্তার হিংস্ররূপ এলাকাবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে।

এ ছাড়া তিস্তা বিপদসীমায় অনেক উপরে চলে যাওয়া নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধে আঘাত করছে। ফলে বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ভয়াবহ রপ ধারন করেছে। নদীর পানি বিদসীমার ৪৮ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা অববাহিকায় রেড এলার্ট জারি করে মানুষজনকে নিরাপদে সরে নেয়ার কাজ শুর হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য