বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে যুদ্ধ থামাতে এবং শান্তি ফেরাতে রাজি হল তালেবান-সহ সব পক্ষই। এই লক্ষ্যে সব পক্ষকেই নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক শান্তি বৈঠক। দোহায় দু’দিনের এই শান্তি আলোচনার উদ্যোক্তা জার্মানি এবং কাতার। তাতে যোগ দিয়েছেন তালেবান প্রতিনিধিরা, আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা, আফগানিস্তানের নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, উচ্চশিক্ষিত এবং রাজনীতিতে সক্রিয় আফগান মহিলারা।

সোমবার আলোচনার শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালেবানের তিন প্রতিনিধিও। বিবৃতিতে সাফ বলা হয়েছে, গৃহযুদ্ধে যেভাবে অসামরিক লোকজন, শিশু ও মহিলাদের মৃত্যু হচ্ছে তা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। নিরীহ মানুষজনের হতাহতের সংখ্যাটা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ধীরে ধীরে সব পক্ষই অস্ত্রবিরতি কার্যকর করবে।

তালেবান প্রতিনিধি দলের নেতা কারি দিন মোহাম্মদ হানিফ আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করেন। তিনিও বলেছেন, আফগান জনগণের স্বার্থরক্ষাটা সবচেয়ে জরুরি। তাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, সরকারি ভবন, নদী বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জলাধারগুলিতে কোনও হামলা চালাবে না তালেবান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূত জালমে খলিলজাদে। এরপর থেকে সরাসরি আমেরিকা-তালেবান শান্তি আলোচনায় বসার ডাক দেন তিনি। তাতে সহমত হন তালেবান প্রতিনিধিরাও। আমেরিকা-তালেবান প্রস্তাবিত বৈঠকের রূপরেখা খতিয়ে দেখার পরই বৈঠকে বসার ব্যাপারে সম্মতি জানাবে তালেবান। যদিও সরাসরি বৈঠকে তাদের আপত্তি নেই বলেই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে তারা। কিন্তু মজলিশ ই শুরা (তালেবানের নিয়ন্ত্রক সভা)-তে আলোচনার পরই তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন।

এদিনের বৈঠককে শান্তির পথে এক ধাপ এগোল বলে মন্তব্য করেছেন উপস্থিত কূটনীতিকরা। তবে কাতারের বৈঠক কতটা সফল হল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। কারণ, নানা প্রতিনিধি নিজের মতো অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তালেবান মোটেও নিজেদের অবস্থান নমনীয় করেনি।

এদিনও তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘানির সরকার হল পশ্চিমী দুনিয়ার পুতুল সরকার। এই সরকারকে তারা মানে না। তবে আশার আলো এই যে, অসামরিক লোকজনের মৃত্যু আটকাতে এবং পরিকাঠামোর উপর যাতে আঘাত না আসে সে ব্যাপারে তারা রাজি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য