সংবাদ সম্মেলনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষক পদে নিয়োগে অনিয়ম ও ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষকের স্থায়ী বহিস্কার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাবিপ্রবি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

বুধবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবী সম্বলিত রিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এসএম হারুন-উর রশিদ।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, সদ্য সমাপ্ত নিয়োগে ত্রুটিযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকগণ সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে কোন বিভাগের অধ্যাপককে না রেখে মনগড়া, ভিসির নিজের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিতদের কমিটিতে রেখেছেন। ফলে অনেক মেধাবী যারা প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরাও বঞ্চিত হয়েছে।

হাবিপ্রবিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের ফলে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও বিভাগের চেয়ারম্যান লিখিতভাবে দ্বিমত পোষন করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেও মৌখিক শিক্ষাদান প্রদানের সময় কম নম্বর দেয়া হয়। ১৯টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগের স্বর্ণ পদক পাওয়া এবং প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া মেধাবীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২২জন কর্মচারী নিয়োগের বিপরীতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মাষ্টারোল শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ সে ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিচার না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে মহিউদ্দিন নুর নামে ১জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। মহিউদ্দিন নুরের চাচাতো ভাই জামায়াত সদস্য। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার নামে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটিরও অধিক অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করা হলেও অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করে নাই। সে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর জ্বালাও পোড়াও কর্মকান্ডের এজাহারভুক্ত আসামী। তারপরও তাকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ জন কর্মকর্তা নিয়োগের কথা থাকলেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২২জনকে।

তিনি বলেন, গত ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রমজান আলীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ১ শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেন। তার স্ত্রী ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও যৌতুকের অভিযোগ এনে রেজিষ্ট্রার বরাবর ১টি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের সত্যতা পায় এবং স্থায়ী বহিস্কারের সুপারিশ করেন। কমিটির সুপারিশকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌন নির্যাতনকে মানসিক নির্যাতন হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল।

পরে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক ড. রমজান আলীকে সাময়িক বহিস্কার করে। গত ১ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৩টি সভা হলেও ড. রমজান আলীকে স্থায়ী বহিস্কারের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. বলরাম রায়, ফোরামের নেতা প্রফেসর এটিএম শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. শফিউর রহমান, প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য