মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না। নিজ বাড়িতে শিকলবন্দি প্রায় ১১বছর পার করছেন মুন্না।

পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে ১১ বছর ধরে শিকলে বন্দি মুন্না ৬/৭ বছর বয়স থেকে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না।

এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে কিছুদিন সুস্থ থাকার পর আবার আগের মতো অসুস্থ হয়ে পরে।

সংসারের অভাব পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে আর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি মুন্নার। তার বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। ১১ বছর ধরে পায়ে শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে বারান্দার খুঁটির সাথে।

মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে সে এলাকাবাসীর বিভিন্ন লোকসান করেছে। কারো গরু ছাগলকে মারধর, মানুষকে মারধর, অনেকের সবজি ক্ষেত নষ্ট করা। মেয়ে মানুষ দেখলে জাপটে ধরার চেষ্টা করে এমনকি নিজের পরিবারের লোকজনদের কাছে পেলে আঘাত করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের-চালা একটি ঘরের বারান্দায় শিকল পায়ে খালি গায়ে শুধু প্যান্ট পরে বসে আছে মুন্না। ৩ বোনের মধ্যে মুন্না সবচেয়ে বড়। তার বাবা মুনসুর আলী (৫৫) একজন ছোট গরু ব্যবসায়ী।

বর্তমানে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার বাবা মুনসুর আলী। তিনি বলেন, আমি হাটে হাটে গরু কেনাবেচা করে দেই। ক্রেতারা খুসি হয়ে যা দেয়। আর হাটে না গেলে দিনমজুরের কাজ করি। দৈনিক ৩০০-৩৫০ টাকা এই টাকা দিয়ে সংসার আমার সংসার চলে। কিভাবে মুন্নার চিকিৎসা করব ভেবে পাচ্ছি না। তারপরেও সে টাকা দিয়ে বিভিন্নভাবে তার চিকিৎসা করছি। দৈনিক ১০০ টাকার ওষুধ লাগে মুন্নার। অবশিষ্ট টাকায় সংসারের খরচ চালাই। এভাবেই কষ্টের মধ্যে চলছে আমাদের জীবন। অর্থের অভাবে পুরোপুরিভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি বাবা হয়ে ছেলের কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।

উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ন কবির বলেন, মুন্নাকে পাবনা এবং দিনাজপুর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল। বাবা-মা অসচ্ছল তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।। মুন্নার পায়ের শিকল খুলে দিলে বিভিন্ন ভাবে উত্তেজিত হয়ে গ্রামবাসীকে উত্ত্যক্ত করে এবং মানুষের কাছে ও বিভিন্ন দোকানদারের কাছে গিয়ে টাকা চায়। ইউপি সদস্য শাহের আলী বলেন তাকে উন্নত চিকিৎসা করালে আমার মনে হয় ভাল হয়ে যেতে পারে এজন্য তিনি মুন্নার চিকিৎসার সাহায্যের জন্য সরকারীভাবে এবং সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো যদিএকটু এগিয়ে আসেন তাহলে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে মুন্না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য