তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদাতাঃ দেড় লাখের বেশি জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫০শয্যার একটি হাসপাতাল। তারপরেও লেগে আছে চরম ডাক্তারের সংকট। নতুন ডাক্তার দেওয়া হলেও বেশি দিন থাকেন না তারা। বদলি নিয়ে চলে যান। জানা যায়, এখানে তাদের পোষায় না। শাস্তি স্বরূপ পাঠানো হয় তাদের। হ্যাঁ এটা দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালের চিত্র। দেড় লাখেরও বেশি জনগোষ্ঠীর এই হাসপাতালে মাত্র দুজন ডাক্তার দিয়ে খুড়িয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। যেখানে ২৮জন ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে মাত্র দুজন। বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে প্রতিদিন রোগীদের গিজগিজ করতে দেখা যায়। কেউ ডাক্তার পান, কেউ ডাক্তার না পেয়ে ফিরে বাজারের ফার্মেসী দোকানদারকে রোগের বর্ণনা দিয়ে ঔষুধ কিনে নিয়ে যান। এভাবেই চলছে ডাক্তার সংকটে রোগীদের চরম দূর্ভোগ।

জানা যায়, ৫০শয্যার এ হাসপাতালে ২৮জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন। এদের মধ্যে কাজী আব্দুল্লাহ আল মারুফ (এমবিএসএস), প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার আবু জাফর মো.আজাদ ও একজন কলসালটেন্ট ডা.মনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া চারজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নজরুল ইসলাম, আবুল বাশার, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট এসএম শামীম ও ডেন্টাল আনোয়ার হোসেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার প্রদানের জন্য যে পরিমান ডাক্তার থাকা দরকার, তা চরম সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে।

অন্যদিকে বহির্বিভাগে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ওষুধ এবং ডাক্তার না পাওয়ায় রোগীরা বাধ্য হয়ে অনেক রোগী পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজসহ প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সঠিত চিকিৎসার জন্য গিয়ে মানসিক ও অর্থনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া অনেক রোগী পাসপোর্ট ভিসার করে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই ও কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসা করে আসছেন। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের গুনগতমান ও দক্ষ চিকিৎসক থাকার পরও শুধু হাতের নাগালে না পেয়ে অনেক মানুষ দিন দিন দেশের চিকিৎসা সেবার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ঘুরে দেখা যায়, আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের চরম ভিড়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস জ্বর, ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালে গিজগিজ করছে নানান বয়সী রোগী। ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীরা কাংখিত ডাক্তার না পেয়ে রোগ নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। জরুরী বিভাগে দূর্ঘটনার শিকার প্রচুর রোগী লক্ষ করা যায়। ডাক্তার সংকটের কারণে কিছুদিন আগে আবাসিক মেডিকেল অফিসার কাজী আব্দুল্লাহ আল মারুফকে অসুস্থ্য অবস্থায় হাতে স্যালাইন লাগিয়েই রোগীর সেবা দিতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাফর মো.আজাদ বলেন, হাসপাতালে খুব ডাক্তার সংকটের কারনে দায়িত্ব পালনে হাফিয়ে উঠছি। বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে প্রচুর রোগী। মাত্র একজন এমবিএসএস ডাক্তার। এর আগে দুজন ছিল, তাদেরকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। তারপরেও কষ্ট হলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দিতে। নতুন কোন ডাক্তার আসার সম্ভাবনা রয়েছে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই বলতে পারছি না। তবে তিন-চারমাস সময় লাগতে পারে। এলাকার সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকার চিকিৎসাসেবার প্রতি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল। দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল হিসেবে এখানে ভালো ও অভিজ্ঞ ডাক্তার দিবেন এমনই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য