গত ১ জুলাই পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার পর প্রথমবারের মতো হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী। চীনা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি অঞ্চলে রবিবার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কিত প্রত্যাবাসন বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানান দিতে সেখানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে দিনের পরের দিকে বিক্ষোভরতদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশি তৎপরতা ঠেকাতে বিক্ষোভকারীরা ছাতা ব্যবহার করেছে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করতেও দেখা গেছে।

গত মাসে হংকং সরকার বিতর্কিত একটি প্রত্যর্পণ বিল পাসের উদ্যোগ নিলে বিক্ষোভে নামে অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা এই বিল পাস হলে হংকংয়ের রাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়বে। আন্দোলনের মুখে বিল পাসের কার্যক্রম স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। তবে আন্দোলনকারীরা চাইছে বিলটি পুরোপুরিভাবে বাতিল করা হোক।

গত ১ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে রাজপথে অবস্থান নেয় হাজার হাজার গণতন্ত্রকামী মানুষ। পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা ভবনের দেয়ালে নানারকম স্লোগান লিখে দেয়।

রবিবার কুউলোন শহরের মধ্য দিয়ে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা পশ্চিম কুউলোনের ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত যায়। এই স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকং। মূল ভূখণ্ডের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রবিবারের বিক্ষোভে চীনের জাতীয় সঙ্গীত এবং চীনা ভাষায় লিখিত ব্যানার বহন করে।

এডিসন এনজে নামে ১৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলে, আমরা পর্যটক এবং মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের হংকংয়ে যা ঘটছে তা দেখাতে চাই। আর আশা করি তারা এই ধারণা চীনে নিয়ে যাবে।

বিক্ষোভ আয়োজকরা বলছে, রবিবার বিক্ষোভে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে পুলিশের দাবি এদিন বিক্ষোভে যোগ দেয় ৫৬ হাজার মানুষ।

প্রসঙ্গত, হংকং এক সময় ছিল চীনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া ব্রিটিশ উপনিবেশ, যা ১৯৯৭ সালে আবার চীনের হাতে ফিরিয়ে দেয় ব্রিটেন। তখন একটা চুক্তি হয়েছিল ‘এক দেশ দুই পদ্ধতি’ ভিত্তিতে হংকং শাসিত হবে এবং স্বায়ত্তশাসনের গ্যারান্টি থাকবে। সম্প্রতি খসড়া করা প্রত্যর্পণ বিলে ওই স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিক্ষোভকারীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য