সংবাদ সম্মেলনঃ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বীরগঞ্জ পৌরসভাধীন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন বীরগঞ্জ বাজারের পার্টেক্স ফার্নিচারের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবলু। তার স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বনমালি রায় সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্যাশ বাক্সে থেকে ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অবশিষ্ট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা না দিলে ব্যবসা করার সাধ চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বীরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বনমালি রায়ের ছত্রছোয়ায় একটি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি গ্রুপের উত্থান হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। ফলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে সাধারন ব্যবসায়ীরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পৌর কাউন্সিলর বনমালি রায় ড্রেন নির্মানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবী করে আসছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দাবানলে সাধারন ব্যবসায়ীরা শুধু নয়, আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগ রেহাই পায়নি।

গত ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ বীরগঞ্জে সম্মেলন করতে আসলে বনমালি রায়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে সম্মেলন ভুন্ডুল করে দেয়া হয়। ছিড়ে ফেলা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার। এ ব্যাপারে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খাদিজা আক্তার শিল্পী বীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। যার নং-২৭০।

সাধারন ডায়েরীতে পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন বাবুল, মোঃ জাকারিয়া জাকা, নুরিয়ার সাইদ, আবু হুসাইন বিপুসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। খাদিজা আক্তার শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগকে লিখিত অভিযোগ করা হবে। ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবলু লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন যুব মহিলা লীগ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন। তারাও এই গ্রুপটির সন্ত্রাস, মাস্তানী ও তান্ডবের রোশানল থেকে রেহাই পায়নি। ছিরে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার। পালিয়ে গেছে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে সাধারন ব্যবসায়ীদের করুন অবস্থায় রয়েছে।

এ সব সন্ত্রাসীদের উত্থান প্রতিরোধ না করা হলে যে কোন মুহুর্তে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বীরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বিপিএমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহীনির আশুহস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী মঞ্জু আহমেদ সিদ্দিকী, শিক্ষক মোঃ শাহীন আলমসহ ব্যাবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য