আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ রেলপথে রংপুর বিভাগের প্রবেশদ্বার গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন অনেকগুলো আন্ত:নগর ট্রেন যাতায়াত করলেও যাত্রাবিরতি নেই রাজধানীগামী একটি ট্রেনেরও। ফলে এতদঞ্চলের জনগণকে রেলপথে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস ছাড়া তাদের যাতায়াতের আর কোন বিকল্প যানবাহন নাই।

উলে¬খ্য, গাইবান্ধা জেলার একমাত্র সরকারি ভারীশিল্প কারখানা রংপুর চিনিকলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার অবস্থানের কারণে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, অনেক ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী জনপদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধান রেলস্টেশন এই মহিমাগঞ্জ।

আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবীতে বছর দুয়েক আগে এলাকার লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেল কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের কারণে ‘ক্লোজডাউন’ হওয়া এ স্টেশনে পরবর্তীতে আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেয়া হবে বলে দীর্ঘ দিনেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকার রেলযাত্রীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী জনগণ রাজধানীগামীসহ সকল আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠন।

জানা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কারণে গাইবান্ধা জেলার সবচাইতে উন্নত উপজেলা গোবিন্দগঞ্জের প্রধান রেলস্টেশন মহিমাগঞ্জের ওপর দিয়ে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন আটটি আন্ত:নগরসহ ১৬টি ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে লোকাল ও মেইল ট্রেন এবং দিনাজপুর থেকে সান্তাহারের মধ্যে চলাচলকারী আন্ত:নগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়া বাকী ছয়টি ট্রেনই এখানে যাত্রা বিরতি করে না।

এলাকার রেলযাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এ রেল রুটের অন্যান্য স্টেশনের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও অজ্ঞাত কারণে জনগুরুত্ব সম্পন্ন এ স্টেশনে রাজধানী ঢাকা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী আন্ত:নগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি নেই। রংপুর চিনিকল, বেশ কয়েকটি ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি অনেকগুলো অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে এখানকার শত শত মানুষকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়।

এ জন্য তাদের বোনারপাড়া, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। কিন্তু আন্ত:নগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। একইভাবে ঢাকা থেকে এসে ওই সব স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সিএনজি অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন ছোট ছোট হালকা যানবাহনে চড়ে মহিমাগঞ্জে পৌঁছুতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেন যাত্রীরা আরেক দফা।

এ কারণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ও পাশ^বর্তী সাঘাটা উপজেলার একাংশের রেলযাত্রীসহ একটি বিশাল এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে ট্রেনের বিকল্প হিসেবে সড়ক পথ ব্যবহার করায় সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে এখানে সকল আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি করেছেন এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ প্রধান জানান, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে মহিমাগঞ্জ স্টেশনে সকল আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য