মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ‘অকর্মা, অনির্ভরযোগ্য ও অপদার্থ’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডেরচ।

রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত কয়েকটি ইমেইলে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের এ শীর্ষ কূটনীতিকের মূল্যায়নগুলো উঠে আসে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ফাঁস হওয়া এ ইমেইলগুলোতে ডেরচ এখনকার হোয়াইট হাউসকে ‘একেবারেই অকার্যকর ও বিভক্ত’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এখনি ‘বাতিলের খাতায়’ ফেলা উচিত হবে না বলে সতর্কও করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোকে ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে অভিহিত করলেও এর সঠিকতা অস্বীকার করেনি।

হোয়াইট হাউসের কাছ থেকেও এসব তারবার্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের এসব মন্তব্য দুই দেশের ‘বিশেষ বন্ধুত্বকে’ পরীক্ষার মুখে ফেলবে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এ বার্তাগুলোতে ডেরচ বলেছেন, “এই (ট্রাম্প) প্রশাসন যে আরও স্বাভাবিক হবে, কম অকার্যকর, কম অপ্রত্যাশিত কাজ করবে, কম দ্বন্দ্বমুখর, কূটনৈতিকভাবে কম অদ্ভূত ও কম অকর্মা হয়ে উঠবে তা বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা।”

এবারের হোয়াইট হাউসকে ‘কখনো যোগ্য দেখাবে’ কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন এ কূটনীতিক।

জুনের যুক্তরাজ্য সফরে ট্রাম্পের ‘ঝলকানি’ দেখা গেলেও মার্কিন প্রশাসন আগের মতোই আত্মকেন্দ্রিক থাকবে বলেই ধারণা ডেরচের।

“এটা এখনো ‘আমেরিকাই প্রথমের’ ভূমি,” বলেছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা ব্রেক্সিটের পর লন্ডন-ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও বার্তাগুলোতে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে হলে ‘আপনাকে সহজ ও স্পষ্ট করে আপনার বিষয়গুলো তুলতে হবে’, বলেছেন ডেরচ।

গত মাসে পাঠানো এক বার্তায় এ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিকে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ ও এলোমেলো’ বলেও অভিহিত করেছেন।

ইরানে বিমান হামলার পরিকল্পনা থাকলেও দেড়শ মানুষ মারা পড়বে জেনে ১০ মিনিট আগে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন- ট্রাম্পের এমন ভাষ্য নিয়েও সন্দিহান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনোই ইরানে ‘হামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নেননি’ বলে ধারণা এ ব্রিটিশ কূটনীতিকের।

যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোনো সংঘাতে জড়াবেন না- নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া এ প্রতিশ্রুতি বদলাতেও ট্রাম্প চাননি, অনুমান ডেরচের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য