পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সম্প্রতি দুই দেশ সম্মত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ‘শত্রুতামূলক আচরণে নাছোড়’ হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ‘নিষেধাজ্ঞার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে আছে’ বলে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘে কার্যরত উত্তর কোরীয় মিশন, জানিয়েছে বিবিসি।

ওয়াশিংটন কোরীয় উপদ্বীপের ‘শান্তিপূর্ণ বাতবরণকে নষ্ট করার’ চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

রোববার দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্তের অসামরিক এলাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার মাত্র তিন দিন পর উত্তর কোরিয়ার এ বিবৃতিটি এলো।

ওই দিন ট্রাম্প প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অল্প সময়ের জন্য উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশও করেছিলেন। এরপর দুই নেতা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কথাবার্তা বলেন। এ সময় তারা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে থেমে থাকা আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়েও সম্মত হন।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বুধবারের বিবৃতির ভাষায় তাদের ওই অবস্থান থেকে সরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে ভাষ্য বিবিসির।

উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে পরিশোধিত পেট্রল আমদানির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ তুলেছে বিবৃতিতে তার জবাব দিয়েছেন তারা।

তারা আরও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠনো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মিলিত চিঠিরও জবাব দিয়েছেন তারা।

ওই চিঠিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তর কোরিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, “যে দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছেন সেই একই দিন এই যৌথ চিঠি পাঠানোর বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। ওই চিঠিতে এই সত্যই প্রকাশ পেয়েছে যে প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ডিপিআরকের (উত্তর কোরিয়া) বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও বেশি নাছোড় হয়েছে।

“কোরীয় উপদ্বীপে যে শান্তিপূর্ণ বাতাবরণ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে তা নষ্ট করার চেষ্টা করছে, এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে সজাগ থাকতে হবে।”

নিষেধাজ্ঞাকে ‘সব রোগের ওষুধ’ হিসেবে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে পিয়ংইয়ং।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার এই বিবৃতির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য