উত্তর কোরিয়ায় গত সপ্তাহে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থী অ্যালেক সিগলি ‘মুক্তি পেয়েছেন ও নিরাপদে আছেন’ বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

পিয়ংইয়ংয়ের সুইডিশ দূতাবাস ও উত্তর কোরীয় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বৈঠকের পর ওই অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থী ছাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

উত্তর কোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব দূতাবাস নেই; অন্য অনেক পশ্চিমা দেশের মতো তারাও সুইডেনের দূতাবাসের মাধ্যমেই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে জরুরি সব কাজ চালায়।

কিম ইল সুং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে যাওয়া সিগলি গত বছর থেকে উত্তর কোরিয়াতেই বসবাস করছিলেন।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টার পাশাপাশি পশ্চিমা পর্যটকদের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবসাও ছিল ২৯ বছর বয়সী এ যুবকের।

তাকে ছেড়ে দেয়ার খবর প্রথম দেয় এনকে নিউজ। মুক্তি পাওয়ার পর সিগলি নিরাপদে চীনে অবতরণ করেছেন, সেখান থেকে তার জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া বিষয়ক এ বিশেষ ওয়েবসাইট।

“আমি ঠিক আছি। হ্যাঁ, আমি ভালো আছি, খুব ভালো,” বেইজিং বিমানবন্দরে নামার পর ভিডিও ফুটেজে সিগলিকে এমনটাই বলতে শোনা গেছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম।

কোরীয় ভাষায় দক্ষ এ শিক্ষার্থীকে কেন উত্তর কোরিয়া আটক করেছিল, তা জানা যায়নি।

“আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি- আজ অ্যালেক সিগলি উত্তর কোরিয়ার আটককেন্দ্র থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তিনি নিরাপদে আছেন, ভালো আছেন,” অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বলেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

বুধবার সুইডেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যালেক সিগলির ‘নিখোঁজের’ বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে জানান মরিসন।

“অমূল্য এ সহযোগিতার জন্য আমি সুইডিশ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি,” বলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

উত্তর কোরিয়ায় যে অল্প কয়েকটি পশ্চিমা দেশের দূতাবাস আছে, সুইডেন তার একটি। বেশিরভাগ সময় এ দূতাবাসই অন্য দেশগুলোর (উত্তর কোরিয়ায় যাদের দূতাবাস নেই) হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কাজ করে থাকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য