দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কাহারোলে উপজেলায় মাছ চাষে সফলতা ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলেছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত জলাশয়। আর এই জলাশয়ের সর্বত্তোম ব্যবহারের নীতি গ্রহণ করে এই উপজেলায় মাছ চাষে দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা মৎস্য দপ্তরের অধীনে কাহারোল উপজেলায় এসকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এই কার্যক্রমের মধ্যে অব্যহৃত সকল খাস পুকুর গুলো সংস্কারের মাধ্যমে আধা নিবিড়-নিবিড় মৎস্য চাষের আওতায় আনা হয় এবং এর পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর গুলোতে মাছ চাষে উৎপাদন ও অত্র উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সিআইজি মৎস্য চাষিদেরকে শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় আনা, হ্যাচারী গুলোকে সংস্কার করে দেশী প্রজাতির মাছের নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং প্রবাহমান নদী গুলোতে খাঁচা স্থাপন করে মাছ চাষের আওতায় আনা ও বর্ষা মৌসুমে ধানক্ষেতে মাছ চাষের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে চলছে এই উপজেলায়।

উপজেলা মৎস দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে এই উপজেলায় ৪.২ হেক্টর খাস জলাশয় সংস্কার করা হয়েছে এর মধ্যে ১.৭৯ হেক্টর জলাশয় সম্পূর্নরুপে ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে মাছ চাষে অনুপোযুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু জেলা মৎস কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং উপজেলা প্রসাশনের সার্বিক সহযোগীতায় এ সমস্ত ভরাট জলাশয় গুলো সংস্কার করা হয় এবং এর পাশাপাশি দিনাজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস,এম, রেজাউল করিম ঘনঘন পরিদর্শন, সঠিক পরামর্শ ও নিবিড় তত্বাবধায়নের কারণে অন্যন্যা বছরের তুলনায় এ বছর অতি দ্রুত এবং সঠিকভাবে জলাশয় গুলো কাজ সরকারী নীতিমালা ও ডিজাইন অনুযায়ী সংস্কার কাজ গুলো সম্পূর্ন করা হয়ছে।

মাছ চাষের সফলতা ও উন্নয়ন ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ সায়েম তার দপ্তরে এক সাক্ষাতকারে এই প্রতিনিধিকে জানান, অত্র উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সকল মৎস চাষীকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে যাদের পুকুর ২০ শতক জমির কম তারা নার্সারী এবং শিং, মাগুড়, পাবদা, গুলশা ইত্যাদি মাছের চাষ করবেন, যাদের পুকুর ২০-৪০ শতক জমি আছে তারা বড় পোনা মাছের উৎপাদন করবেন এবং যে সকল পুকুর ৪০ শতক এর বেশী সেই গুলোতে বড় আকারের মাছের চাষ করা হবে।

এর ফলে অত্র অঞ্চলে বা উপজেলায় মান সম্পন্ন পোনা মাছের সংকট পড়বে না। এক্ষেত্রে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রতিটি প্রশিক্ষণে মাল্টি-মিডিয়া সহ নিজেই উপস্থিত হয়ে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের লিফগণ ইউনিয়ন পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করছেন।

অত্র উপজেলায় অবস্থিত ছোট ছোট যেসব প্রাকৃতিক জলাশয়ে ছোট দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রজনন করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ইতোমধ্যে এধরণের ৫টি জলাশয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শে সংরক্ষণ মূলক সাইন বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। আগামি বছর আরোও ১০টি জলাশয় চিহ্নিত করে সংস্কার পূর্বক এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

এব্যপারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহোগীতার আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং এই কর্মসৃজন কর্মসূচীর মাধ্যমে এসমস্ত সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে। এছাড়াও উপজেলঅর ভাতগাঁ ব্রীজের নিকট ঢেপা নদীতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নের মাছ চাষের খাঁচা স্থাপন করা হয়।

এতে বার্ষিক ৬ মেঃ টন মাছ উৎপাদনে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার ঢেপা ও পূর্ণভবা নদীর যেসকল অংশে সারা বছর পানি থাকে সেখানে পেন ও কোল মৎস্য চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসকল কার্যক্রমরে ফলে গত ২০১৮ সালে অত্র উপজেলায় মোট মাছের উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে ৩৫৯ মেঃ টন। আর এই উপজেলায় মোট মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৪০০ মেঃটন।

এর মধ্যে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৮৯ মেঃটন। দেশীয় মাছের সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে ২০১৯ সালে উৎপাদন ৩৫০ মেঃটন ছাড়িয়ে যাবে বলে উপজেলা মৎস্য দপ্তর আশা করেছে। অন্য দিকে কাহারোল উপজেলার হাতিশা গ্রামে অবস্থিত মের্সাস হাই হ্যাচারীর সত্ত্বাধিকারী ও পোনা মাছ উৎপাদনকারী মোঃ আবদুল হাই মাছ চাষের বিষয়ে জানান, আমার হ্যাচারীটি মৎস অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত এবং উপজেলা মৎস কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম রেজাউল করিম নিয়মিত পরিদর্শন ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান-পরামর্শ পদান করায় আমরা গুণগত মান সম্পন্ন সকল কার্প জাতীয় মাছের রেণু, শিং, মাগুড়, মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা সরবরাহ করে যাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য