মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ নিখোঁজ হবার ১০ দিন পর গৃহবধূ বিজলী আক্তারকে (৪০) খুঁজে পেয়েছেন তার স্বামী দলিম উদ্দীন। গত ২৯ জুন ‘ট্রেনে হারিয়ে ফেলা স্ত্রীকে এক সপ্তাহ ধরে খুঁজছেন স্বামী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াখোর গ্রামে বাড়ি এই দম্পত্তির।

গতকাল রবিবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার সময় ঢাকা থেকে একটি নৈশ্য কোচ ঠাকুরগাঁও শহরে পৌছে দিলে কয়েকজন প্রতিবেশীর নজরে পড়েন তিনি। সংবাদে থাকা ছবির সঙ্গে মিল খুঁজে পেলে তাকে অটোচার্জার যোগে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

গৃহবধূ বিজলী আক্তার আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, ফুলবাড়ী স্টেশনে পানি পান করার জন্য নেমে পড়েন তিনি। পানি পান করে পুনরায় ট্রেনে ওঠার আগেই ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। পরের একটি ট্রেনে উঠে তিনি বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও সেই ট্রেনটি পুনরায় তাকে নিয়ে যায় ঢাকা শহরে। ঢাকায় কয়েকটি নৈশ্য কোচে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

অবশেষে গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় তিনি একটি নৈশ্য কোচে উঠে রংপুর শহর পর্যন্ত আসেন। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি নৈশ্য কোচ তাকে পঞ্চগড়ে নিয়ে যায়। পরে পঞ্চগড়ের কয়েকজন সংবাদ উল্লেখিত বিবরণ অনুযায়ী গৃহবধূর মিল পেয়ে তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বাসে তুলে দেন।

তিনি আরও জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও শহরে পৌঁছালেও বাড়ি ফেরার জন্য কোনো রাস্তা মনে পড়ছিল না তার। পাশের গ্রামের কয়েকজনে শহরে ব্যক্তিগত কাজ শেষে ফেরার পথে গৃহবধূকে দেখলে তাকে অটোবাইক যোগে বাড়িতে পৌঁছে দেন। মাকে ফিরে পেয়ে প্রাণ ফিরেছে ওই গৃহবধূর দুই সন্তানের। স্বস্তি ফিরেছে ওই পরিবারে। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর গৃহবধূ বাড়িতে ফেরায় খুঁশি এলাকার সাধারণ মানুষগুলোও।

গৃহবধুর স্বামী দলিম উদ্দীন জানান, গণমাধ্যমে বিষয়টি না আসলে আমি আমার স্ত্রীকে খুঁজে পেতাম না। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসন। এজন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম একযোগে কাজ করলে অনেক সমস্যাই দ্রুত নিরসন সম্ভব। গৃহবধুর বাড়িতে ফেরা বিষয়টি তার প্রমাণ।

প্রসঙ্গত গত ২১ জুন দুই সন্তানসহ পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ট্রেনে ঠাকুরগাঁও রোড রেলষ্টেশনে আসার পথে গৃহবধু বিজলী আক্তারকে হারিয়ে ফেলেছিলেন স্বামী। প্রায় ১০ দিন ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন রেলষ্টেশনে খোঁজাখুঁজি করেন স্বামী দলিম উদ্দীন। শুক্রবার (২৯ জুন) রাতে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করলে বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় আসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য