আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা প্রদানের এক দফা দাবিতে সোমবার ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসের তালা বন্ধ করে পৌর কার্যালয়ের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারি দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করে।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গাইবান্ধা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুই দিনের এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। অনুরূপভাবে জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাতেই এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে গাইবান্ধা পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি অমিতাভ চক্রবর্তী রিন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম সিদ্দিকুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল হক, বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক বিপুল কুমার সাহা, গাইবান্ধা জেলা পৌর সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সূচনা সরকার, সাবেক সভাপতি আব্দুল আহাদ বাবু, অসিম কুমার মহন্ত, যুধিষ্ঠির চন্দ্র সরকার, নুর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের ৩২৭টি পৌরসভার মধ্যে অধিকাংশ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা পান না। অনেক পৌরসভায় দুই মাস থেকে সাড়ে ছয় বছর পর্যন্ত বেতন ভাতাদি বকেয়া রয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও উৎসব ভাতা হতেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবী মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা এ সময় বন্ধ থাকায় সেবা গ্রহীতারা এসে ফেরত যান। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ নিতে এসে সেবা গ্রহীতরা দূর্ভোগে পড়েন। সেবা নিতে আসা পৌর এলাকার কুঠিপাড়ার মিজানুর রহমান (৩২) বলেন,‘ আমার ভাইয়ের মৃত্যু সনদ নিতে এসে না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হলো।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য