সুদানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দেশটির প্রধান বিরোধীদলের কার্যালয়ে হানা দিয়ে সামরিক শাসনবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ডাকা একটি সংবাদ সম্মেলন বানচাল করে দিয়েছে।

বেসামরিকদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে সুদানিজ প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) রোববার সামরিক শাসনবিরোধী ‘মিলিয়ন স্ট্রং মার্চের’ ডাক দেয়। বিক্ষোভের খুঁটিনাটি নিয়ে তারা শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনও ডাকে।

ওই সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসপিএ-র কার্যালয়ে হানা দেয় এবং ভবনটি থেকে সবাইকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

চলতি মাসের শুরুর দিকে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনার তিন সপ্তাহ পর বিরোধীরা এ গণবিক্ষোভের ডাক দেয়, বলছে বিবিসি।

কার্যালয়ে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হানাকে ‘দমনপীড়নমূলক আচরণ’ অ্যাখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এসপিএ।

এ ঘটনার পরও রোববার যথাসময়েই ‘মিলিয়ন স্ট্রং মার্চ’ হবে, বলেছে তারা।

“সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই আরএসএফের তিনটি গাড়ি, সশস্ত্র সদস্যদের নিয়ে আমাদের ভবনে আসে এবং সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না বলে জানায়,” বলেছেন এসপিএ নেতা আহমেদ আল-রাবি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এরপর ভবনটি থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়, বলেছেন তিনি।

তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হলেও দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হয়নি।

বিরোধীদের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক কাউন্সিলের (টিএসমসি) আলোচনা ৩ জুন ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মধ্যস্থতার চেষ্টায়ও তা ফের শুরু করা যায়নি।

রোববারের বিক্ষোভে কোনো সহিংসতা কিংবা প্রাণহানি হলে বিরোধীদেরই তার দায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেছে সেনা পরিষদ।

জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো যে কোনো ধরনের ‘দাঙ্গা হাঙ্গামার’ ব্যাপারে হুঁশিয়ার করেছেন।

শুক্রবার এসপিএ তাদের দুই নেতাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে।

নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য