ভূমধ্যসাগরে কোস্টগার্ডের সঙ্গে দুই সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা চলার পর একটি শরণার্থী উদ্ধারকারী জাহাজের ক্যাপ্টেনকে ইতালির লাম্পেডুসা বন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সি-ওয়াচ থ্রি জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্যারোলা রাকেতি লিবিয়ার উপকূল থেকে ৫৩ জন আফ্রিকান অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করার পর জাহাজ নিয়ে সাগরে ভাসছিলেন।

ইতালির কোনো বন্দরে জাহাজটির ভিড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলন দেশটির কর্তৃপক্ষ, কিন্তু শুক্রবার রাতে জাহাজটি লাম্পেডুসা বন্দরে প্রবেশ করে।

ইতালির কট্টর ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধারকারী জাহাজগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শুধুমাত্র যেখানে জাহাজটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেই নেদারল্যান্ড অথবা জার্মানিতে গিয়ে সি-ওয়াচ থ্রি অভিবাসন প্রত্যাশীদের নামাতে পারবে বলে এর আগে বলেছিলেন তিনি।

কিন্তু তারপরও কোনো অনুমতি ছাড়াই জাহাজ নিয়ে লাম্পেডুসা বন্দরে প্রবেশ করেন রাকেতি। এর মাধ্যমে ইতালির কোস্টগার্ডের সঙ্গে তার বেশ কয়েকদিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান হয়।

সি-ওয়াচ থ্রি বন্দরে ভিড়ার পর ৩১ বছর বয়সী জার্মান নাগরিক রাকেতিকে হাতকড়া পরিয়ে জাহাজ থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।

তাকে বন্দরে প্রবেশ করার অনুমতি না দেওয়া ‘একটি যুদ্ধ জাহাজকে প্রতিরোধ’ করার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ইতালির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরএআই জানিয়েছে।

১২ জুন লিবিয়া উপকূল থেকে যে ৫৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে সি-ওয়াচ থ্রি উদ্ধার করেছিলে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যগত কারণে তাদের ১৩ জনের দায়িত্ব নিয়েছে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।

জাহাজে থাকা অবশিষ্ট ৪০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ইইউভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জি২০ সম্মেলন উপলক্ষে জাপানে থাকা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কোন্তে শুক্রবার জানিয়েছেন।

ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাবারের ডিঙ্গি থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধারের পর দুই সপ্তাহ ধরে তীরে ভিড়তে না পেরে সাগরে ভাসছিলো সি-ওয়াচ থ্রি। এ সময় জার্মান ত্রাণ সংস্থা সি-ওয়াচ ইতালি, জার্মানি, মাল্টা ও ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছে এবং ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন রাকেতি।

শেষ পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর কোনো বিকল্প না থাকায় জাহাজটি ইতালির জলসীমায় প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সি-ওয়াচ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য