চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের তামিলনাড়ুর পানির সঙ্কট। পানির তীব্র সঙ্কটের কারণে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পানির ট্যাঙ্ক। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ।

জানা গেছে, প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পানির ট্যাঙ্ক। টাকা দিলেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক মাস। চেন্নাইয়ের বাসিন্দা এম সেশাদ্রি জানিয়েছেন পানির ট্যাঙ্কের অর্ডার দিয়েছিলেন গত ১৭ মে। এক মাস হয়ে গেলেও পানির ট্যাঙ্ক এসে পৌঁছয়নি তাঁর বাড়িতে। তার জন্য অন্তত পক্ষে ১০ বার শহরের পানি সরবরাহ কেন্দ্রে ঘুরে এসেছেন তিনি।

গত বছরেও ঠিক এরকমও পানির সংকট দেখা দিয়েছিল চেন্নাইয়ে। পানির জন্য রাজ্যের একাধিক তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। অফিস প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের একাধিক গেস্ট হাউস, হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই পানিসংকটের কারণে।

পানি বাঁচাতে কাগজের থালায় খাওয়া দাওয়া করছেন শহরের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতোটাই উদ্বেগজনক যে ৯০০০ লিটার পানির দাম ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।

পাড়ার কুয়ো থেকে লটারি করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেকারণে বাইরে থেকে পানির ট্যাঙ্ক অর্ডার করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। যার চড়া মূল্য দিতে ঘটি বাটি বিক্রি করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

তীব্র পানির সংকটে একদিকে দাম বাড়ছে পানির ট্যাঙ্কের। প্রায় একেকটি ট্যাঙ্কের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় হাজার টাকা। ৯ হাজার লিটার পানির দাম পৌঁছে গিয়েছে ৫ হাজার টাকার কোঠায়। আর তাই ঘরের আসবাব বিক্রি করে পানি কেনার ঘটনাও ঘটেছে সেখানে। অন্যদিকে সরকারিভাবে পানির সরবরাহ না থাকায় এলাকার কুয়োগুলো থেকে লটারি করে পানি নিতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।

এদিকে চড়া দামের বিনিময়ে পানি মিললেও তার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক মাসেরও বেশি সময়। চেন্নাইয়ের এক বাসিন্দা এম সেশাদ্রি জানান, তিনি পানির ট্যাঙ্কের অর্ডার দিয়েছিলেন গত ১৭ মে। এক মাস হয়ে গেলেও সেই ট্যাঙ্ক তার বাড়িতে এখনো এসে পৌঁছায়নি। অর্ডার দেওয়ার পর অন্তত ১০ বার শহরের জল সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়েছেন তিনি। তবে কবে সেই পানি তার বাড়িতে এসে পৌঁছাবে এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারেনি জল সরবরাহ কেন্দ্র।

তীব্র পানির সঙ্কটের কারণে ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শহরের একাধিক গেস্ট হাউস, হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পানির ব্যবহার কমাতে কাগজের প্লেটে খাওয়া-দাওয়া করছেন শহরের বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য, গত বছরেও একই রকম পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছিল চেন্নাইয়ে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য