দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর পৌরসভায় বজ্রপাতে কম্পিউটারসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

গতকাল বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাতের সাথে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বৃষ্টিপাতের সময় বিকেল সোয়া ৫ টায় দিনাজপুর পৌরসভার মসজিদের সামনে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পৌরসভা মসজিদে নামাজরত মুসল্লিরাও ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মূহুর্তের মধ্যে পৌরসভার পুরাতন ভবন, মুলভবনসহ সব ভবনের বৈদ্যুতিক বাতি নিভে যায়। পৌরভবনের সব বৈদ্যুতিক তার পড়ে কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্যান, বাতি, ইনটারনেটের সংযোগসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি অকেজো হয়ে পড়ে। কোন কোন জায়গায় বিদ্যুতের বাতি ও সুইচ দেয়াল থেকে খসে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গোটা পৌরভবন অন্ধকারে পরিণত হয়ে পড়ে।

দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আহাম্মেদুজ্জামান ডাবলু জানান, বজ্রপাতের সময় আমি পৌরসভায় ছিলাম। হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। বজ্রপাতের ঘটনায় পৌরসভার কম্পিউটার, আইপিএসসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। বিভিন্ন কক্ষের বিদ্যুতের বাতি ও সুইচসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি দেয়াল থেকে খসে মাটিতে পড়ে গেছে। কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামানি অকেজো হয়ে যাওয়ায় জন্ম সনদসহ অন্যান্য সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌরবাসি যাতে সেবা পেতে ভাগান্তিতে না পড়েন সেজন্য এসব সরঞ্জামাদি দ্রুত মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বজ্রপাতের সময় আমি বাসায় ছিলাম। খবর পেয়ে দ্রত বাসা হতে পৌরসভায় এসে দেখি গোটা পৌরসভা অন্ধকার। পৌরভবন বর্তমানে অন্ধকারে আচ্ছন্ন। পৌরসভার কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিকল হয়ে গেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। তবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তাৎক্ষণিক নিরুপন করা হয়নি বলে জানান পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে বজ্রপাতে জেলার বিরল ও বোচাগঞ্জে এক নারীসহ ৩ জন নিহত । অপর একজন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ৮টায় বিরল উপজেলার উত্তর মাধবপুর বাজারে ও বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের গোধাপুকুর নামকস্থানে এই পৃথকস্থানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বিরল উপজেলার উত্তর মাধবপুর গ্রামের জীবন চন্দ্র রায়ের ছেলে সার্ণিক চন্দ্র রায় (৪৫), হরিশচন্দ্র পুর গ্রামের মৃত কংশ চন্দ্র শীলের ছেলে সুমন্ত চন্দ্র শীল (৪২) ও বোচাগঞ্জ উপজেলার গোধাপুকুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন (৪০)। এছাড়া বজ্রপাতে বিরলের নচুগ্রামের ব্রজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৪২) আহত হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য