দিনাজপুর সংবাদাতাঃ “বাহে এ্যাইঠে হামাক একখ্যান পুল বানে দ্যাও। এ্যাইঠে পুল না হইলে হামার যে খুব অসুবিধা হচে। কতদিনে যে এ্যাইঠে এ্যাকখান পুল হইবে। হামার এ্যাইলার দু:খ ঘুচিবে।” কথাগুলো বলছিলেন নশরতপুর গ্রামের ঈদগাহ্ মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা আমেনা বেগম (৬৫)। তিনি আরো বলেন, “হামরা নদীর ওই পারত যায়া আবাদ করি, গরু- ছাগলগুলাক ঘাস খাওয়াই।”

কিন্তু সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় তারা এসব কাজ কর্ম করতে পারছেন না। তাদেরকে দূর দিয়ে ঘুরে গিয়ে কাজ কর্ম সারতে হচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি রাণীরবন্দর হাটের উত্তর-পূর্ব কোণে ইছামতি নদীর ওপরে নির্মিত অন্তত ৭০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কালো বৈশাখীর ঝড়ে ভেঙ্গে গিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান-সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি, দুবলিয়া, লালদিঘী, ক্যানেলেরবাজার, পীরেরহাট এবং চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর, আলোকডিহি, গছাহার, চকগোবিন্দ, উত্তরপলাশবাড়িসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। এ বাঁশের সাঁকোটি দিয়েই এসব এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ হাজার লোক যাতায়াত করে থাকেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফতেজংপুর ইউনিয়নের চকগোবিন্দ গ্রামের আব্দুল লতিফ (৬৫) জানান-“সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে অটোরিকশা কিংবা রিকশাভ্যান যোগে ঘাটেরপাড় হয়ে কলেজ মোড় দিয়ে গন্তব্যস্থানে যেতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন এসব এলাকার লোকজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানান, নির্ধারিত সময়ে আমরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাণীরবন্দরহাটে নিতে পারছি না। এতে স্বল্প মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।”

আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের নিক্কন দাস (৫০) জানান-“এস্থানে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি অনেক পুরোনো হওয়ায় ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। অর্থের ব্যবস্থা করে সাঁকোটি পূনঃরায় নির্মাণ বা মেরামত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা চলাচলে চরম অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছি। সাঁকোটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।” তারা আরো বলেন-এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এ স্থানে ইছামতি নদীর ওপরে ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছি। তারপরেও কেন জানি এস্থানে ব্রিজটি নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

নশরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর ইসলাম শাহ্ নুরু জানান-অত্রাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এস্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের। তা পূরণ হতে চলেছে। এখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শ্রীর্ঘই সরকারিভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য