চলতি ইরি ও বোরো মৌসুমে সরকারী ভাবে চড়া মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণে ১হাজার ৪০ টাকা দরে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হলেও গুটি কয়েক কৃষক ছাড়া কেউ ধান দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে প্রকৃত কৃষককের নাম তালিকা প্রস্তুতের জন্য নির্দেশনা দেয়া হলে উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ ব্লকে গিয়ে যাচাই বাছাই না করে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ১২হাজার কৃষকের মধ্যে ৭হাজার ৮৯২ কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডধারী নামের তালিকা প্রস্তুত করেন। যা পরবর্তীতে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত করে উপজেলা খাদ্য ও গুদাম কর্মকর্তা ধান ক্রয় শুরু করেন।

গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে বাজার দর অনুযায়ী প্রতিমণ ধান (মোটা) ৪৮০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তাই অতিলোভে বেশ কিছু চাতাল মালিক ও স্থানীয় দালালরা কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি উপকরণ কার্ড অর্থের বিনিময়ে হাতিয়ে নেয়। এরই সুবাধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাগণ কোন প্রকার প্রচার- প্রচারণা ছাড়াই বেশ কিছু চাতাল মালিকদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ধান ক্রয়ের তালিকা জমা দেন।

সরকারের ধান ক্রয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ধান ক্রয়ের একটি কমিটি গঠন করে লটারীর মাধ্যমে ৮৩১টি কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডধারী ধান ক্রয়ের লক্ষে তালিকা প্রকাশ করে ২৫জুন পর্যন্ত ৩৩৮মে.টন ধানের মধ্যে ২৪১ মে.টন ধান ক্রয় করেন। তবে কবে নাগাদ ধান ক্রয় শেষ হবে তা সঠিকভাবে বলতে পারেনি উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা।

কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রকৃত কৃষকরা সরকারী ধান বিক্রয়ে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। খোলা বাজারে ওইসব কৃষকরা ধান বিক্রি করেও তাদের উৎপাদনের অর্ধেক খরচ তুলতে পারছেন না। ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তা এখন কৃষকের গলায় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লটারীর তালিকা প্রকাশের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুলাল মিয়া(৪২), ননীগোপাল(৪০), ইউসুফ আলী(৭২), আঃ রহিম(৫০),কৃষ্ণ রায়(৩০) ও ফনি(২৮)সহ শতাধিক কৃষক ১শতক জমি চাষাবাদ করেননি অথচ তাদের নাম তালিকায় পাওয়া গেছে।

লটারিতে নাম উঠেছে এমন কার্ডধারী কৃষক দুলাল মিয়ার (৪২) কাছ থেকে ১হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে নেয় রাজু মিয়া। শুধু দুলাল মিয়া নয় বেশীরভাগ কার্ডধারী টাকার বিনিময়ে তাদের অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। এমনকি কৃষকের কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদ্য গুদামে ধান দেয়ারও সরেজমিনে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান, কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড কিনে নেয় চাতাল মালিক ও এলাকার দালালরা। এমন অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা সরকারী ধান বিক্রয়ে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল জানিয়েছেন।

২৫জুন মঙ্গলবার এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, প্রান্তিক-বর্গাচার্ষী থেকে শুরু করে অনেক আগে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় কার্ড নিয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মোঃ আঃ আউয়াল বলেন, ভোটার আইডি কার্ড ও ভতুর্কি কার্ড নিয়ে আসলেই ধান নেয়া হচ্ছে। ভোটার আইডি ও ভর্তুকি কার্ড ছাড়া ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট হয় না। তাই কে দিল তা দেখার সময় নাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য