আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ সীমাহীন যানজটে গাইবান্ধা জেলা শহরের মানুষ এখন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে যানজট নিরসনে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সংলগ্ন গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়ক থেকে শহরের পুরাতন জেলখানার মোড় পর্যন্ত ফোরলেন প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ এখনও শুরু না হওয়ায় যানজট সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শহরের বাসটার্মিনাল থেকে শুরু করে পুরাতন বাজার পেরিয়ে ডিবি রোড ও বালাসাঘাট সড়ক জুড়েই প্রতিনিয়ত দীর্ঘক্ষণ সীমাহীন যানজট লেগে থাকে। এছাড়া জেলখানার মোড় থেকে পূর্বকোমরনই বাঁধের মাথা, বড় মসজিদের মোড় থেকে খন্দকার মোড়, ২নং ট্রাফিক মোড় থেকে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত দিন এবং রাতে যানজট লেগেই থাকে। এই যানজটের কারণে প্রতিদিন বাস-ট্রাক, অটোরিক্সা, অটোবাইক ও মোটরসাইকেলের সাথে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে স্বল্প পরিসরের সড়কগুলো দিয়ে পথচারীদের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে।

এর মধ্যে বেআইনীভাবে সড়ক সংলগ্ন ফুটপাত দখল এবং সড়কের সাথে ব্যাপকহারে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বাসটার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় বাস চলাচল শুরুর আগ মুহুর্তে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকায় ওই এলাকায় যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ডিবি রোডের ব্যবসায়িরা রাস্তার পাশে ট্রাক দাড়িয়ে রেখেই মালামাল লোড আনলোড করে থাকে বলেও অধিকাংশ সময়ে সীমাহীন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এই অবস্থাতেও নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিক্সা, অটোবাইক, সিএনজি, মোটর সাইকেল, ট্রাক্টর, হ্যান্ড ট্রাক্টর, বাস-ট্রাক, ভটভটি ও গ্রামবাংলা মোটরযান অপরিসর সড়ক দিয়ে অবাধ চলাচলের মধ্য দিয়েই দুর্ঘটনার আশংকা নিয়ে শহরবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এমতাবস্থাতেও এই শহরে অটোরিক্সা ও অটোবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রনহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে গাইবান্ধা শহর।

গাইবান্ধা সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা গেছে, জেলা শহরের যানজট নিরসনে ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফোরলেন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে শুধু নির্দিষ্ট এলাকার সড়ক ফোরলেনই হবে না বরং সড়কের পাশে পথচারী চলাচলের জন্য ফুটপাত, সড়ক ডিভাইডারে সুন্দর নান্দনিক ফুলের বাগান এবং কাচারী বাজার মসজিদ সংলগ্ন মোড়ে একটি গোল চত্বর ও দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারাও গড়ে তোলা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহন এবং জমি সংলগ্ন অবকাঠামোর মূল্য পরিশোধ বাবদ ব্যয় হবে মোট ১১০ কোটি টাকা। কিন্তু এ যাবত বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৫৩ কোটি টাকা। ফলে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অধিগ্রহণকৃত জমি ও জমি সংলগ্ন অবকাঠামোর মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

তদুপরি রাস্তার ধারে বিশাল বিশাল কয়েকটি রেইন্ট্রিসহ অন্যান্য গাছ রয়েছে। যা জরুরী ভিত্তিতে অপসারণ করতে হবে। সেইসাথে রাস্তার বৈদ্যুতিক ও টেলিফোন লাইন অপসারণ করার বিষয়টিও রয়েছে। এসব কারণেই ফোরলেনের কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশা করা হচ্ছে আগামী দু’মাসের মধ্যেই বরাদ্দকৃত অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ফোরলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য