কারাগারের ভেতরে হত্যার শিকার হলেন ২০১৫ সালে শিখ ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনার মূল অভিযুক্ত মহিন্দর পাল বিট্টু। শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় কারা কক্ষ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান তিনি। অভিযোগ উঠেছে, একইসঙ্গে দুই বন্দি তাকে হত্যা করেছে।

ঘটনার পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পাঞ্জাবজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাঞ্জাব সরকার এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ফরিদকোট জেলার বারগারিতে শিখ ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় পাটিয়ালার নিউ নভ জেলে বন্দি ছিলেন ৪৯ বছরের মহিন্দর পাল বিট্টু। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় মহিন্দরকে পাটিয়ালার নভ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই কারাবন্দি গুরুসেবক সিং ও মনিন্দর সিং তাকে খুন করে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরই তদন্তের নির্দেশ দেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে যেন কোনও গুজব ছড়ানো না হয় সে ব্যাপারেও সকলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি। সব ধর্মের মানুষের প্রতি শান্তি রক্ষা করার আবেদনও জানান অমরিন্দর সিং। এরইমধ্যে জেলের সুপারিনটেনডেন্ট ও ব্যারাকের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পাঞ্জাব সরকার।

সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে এরইমধ্যে বিএসএফের ১০ কোম্পানি বাহিনী ও দুই কোম্পানি র‌্যাফকে পাঞ্জাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলের ভেতরে এই হত্যার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব সরকার জানিয়েছে, কারাবন্দি হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তও করা হবে। গত বছরেই শিখ ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহিন্দর পাল বিট্টুকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, ডেরা সাচা সৌদার অনুগামী বিট্টুর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ফরিদকোটের বারগারিতে শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিবকে অবমাননার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল। মোগা জেলায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় দুই বিক্ষোভকারীর। ফরিদকোটের কোটকাপুরাতেও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে।

ক্ষমতার আসার পরেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রণজিৎ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন পাঞ্জাব মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। ওই কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই ঘটনার সঙ্গে ডেরা সাচা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিমের মামলার যোগসূত্র রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য