যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে রাতদুপুরে চিৎকার করে বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়া করতে শুনে পুলিশে খবর দিয়ে বসেন তার এক প্রতিবেশী।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, জনসনের বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডসকে ‘আমাকে ছাড়ো’ এবং ‘আমার ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাও’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধান হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা জনসন দলের নিবন্ধিত সমর্থকদের ভোটে জিতলেই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। আগামী মাসে ওই ভোট হবে।

টেরিজা মের উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়ায় গত বৃহস্পতিবার চতুর্থ ও পঞ্চম দফার ভোটে একে একে বাদ পড়েছেন শীর্ষ চারে থাকা সাজিদ জাভিদ ও মাইকেল গোভ। রয়েগেছেন সাবেক ও বর্তমান দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও জেরেমি হান্ট।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বিবিসিকে জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রথম প্রহরের দিকে একটি ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।

“২১ জুন শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ০০:২৪ মিনিটে একটি ফোন পেয়ে পুলিশ ক্যামবারওয়েল জেলার এসই৫ এলাকার ওই অ্যাপার্টমেন্টে যায়।

“ফোন করে ওই ব্যক্তি তার প্রতিবেশী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।”

তবে বিবৃতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্বেগজনক কিছু পায়নি বলেও জানায়।

“পুলিশ ওই ঠিকানার সবার সঙ্গে কথা বলেছে। তারা সবাই নিরাপদ এবং ভালো আছে। কর্মকর্তারা সেখানে কোনো অপরাধ বা উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কিছু খুঁজে পায়নি। সেখানে পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের মত কিছুও ঘটেনি।”

তবে এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, তিনি এক নারীর চিৎকার এবং সবেগে কিছু ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলার আওয়াজ পেয়েছেন।

শব্দ এত জোরে আসছিল যে প্রতিবেশীরা নিজেদের ফ্ল্যাটে বসে সেগুলো রেকর্ড করেছেন বলেও জানায় গার্ডিয়ান।

রেকর্ডে জনসনকে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে ‘যাব না’ বলতে এবং এক নারীকে তার ল্যাপটপ ছেড়ে দিতে বলতে শোনা যায়। তারপরই সেখান থেকে প্রচণ্ড শব্দে কিছু ভাঙার আওয়াজ আসে।

সিমন্ডসকে বলতে শোনা যায়, “তুমি কোনো কিছুই পরোয়া করো না, কারণ তুমি নষ্ট হয়ে গেছো। তোমার কাছে অর্থ বা কোনো কিছুর মূল্য নেই।”

জনসনের বাড়িতে পুলিশ যাওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যমে হইচই পড়ে গেলে কনজারভেটিভ এমপি ডমিনিক গ্রিভ শনিবার বিবিসি রেডিওকে বলেন, তিনি গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে দলীয় প্রধান নির্বাচনের সময় নেতাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।

“তারা এমন একটি দায়িত্বশীল পদে বসতে যাচ্ছেন যেখানে তাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

“স্পষ্টভাবেই বিশ্বাসযোগ্যতা ও সততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমার মতে এগুলো একজন মানুষের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মানুষের সামাজিক জীবনেও।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য