দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলায় নবাবগঞ্জে বন বিভাগের বৃহৎ এলাকা ১৪৭৫ একর বনভুমিতে পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে বন বিভাগের উদ্যোগে ১ লক্ষ বিভিন্ন ফলের চারা এবং রেললাইনের দুপাশ্বের ৪০ হাজার তাল গাছের চারা সৃজনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দিনাজপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান জানান, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ১৪৭৫ একর বনভুমিতে পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে অন্যান্য গাছের সাথে বিভিন্ন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফলের গাছ সৃজন করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ২ মাস থেকে ১ লক্ষ বিভিন্ন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফলের চারা সৃজন করতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফল ও ওষুধী গাছের মধ্যে রয়েছে হিজলা গাছ, কড়াই গাছ, ডুমুর, শিমুল, জাম, কদম, লটকন, আম, কাঠাল, বড়াই, শিমুল,সহ প্রায় ৩২ প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফল ও ওষুধী গাছের চারা সৃজনে কার্যক্রম চলছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে চালাগুলো নবাবগঞ্জ বন বিভাগের আওতায় ১৪১৫ একর বনবিভাগে চারাগুলো রোপন করা হবে। সৃজনকৃত চারা যাতে অবহেলায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য তদারকি কার্যক্রম বন বিভাগের জনবল নিয়োজিত থাকবে।

সূত্রটি জানায়, সরকার এসব বনগুলোতে গাছের পাশাপাশি পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এ ধরনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের ফলের চারা ও ওষুধি গাছের চারা সৃষ্টি করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বন বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এদিকে এই জেলার রেল লাইনের দুপার্শ্বে তালের গাছ সৃজনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে পার্বতীপুর থেকে ফুলবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশন পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রেল লাইনের দুপার্শ্বে ৪০ হাজার তালের গাছের চারারোপনের প্রকল্প শুরু করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে আষাঢ় মাসের মধ্যেই তালের চারা রোপনের কাজ শেষ করা হবে।

এরপর আগামী শ্রাবণ মাসের দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত এবং ফুলবাড়ী থেকে হিলি রেলষ্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনের দুপার্শ্বে তালের গাছের চারা রোপন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য