ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল কোম্পানির সদরদপ্তরের কাছে রকেট হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছে।

বুধবার শহরটির পশ্চিম অংশের বুর্জেশিয়া সাইটে এ হামলাটি হয়েছে বলে ইরাকের পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।

রকেটটি যেখানে আঘাত হেনেছে তার ১০০ মিটার দূরেই মার্কিন তেল কোম্পানি এক্সনমোবিলের আবাসিক ও কার্যক্রম পরিচালনা কেন্দ্র।

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলা দায় স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পারস্য উপসাগরে তেহরান-ওয়াশিংটন ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই বসরায় এ রকেট হামলার ঘটনা ঘটল।

ইরাকে ক্রিয়াশীল শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে বলে মনে করা হয়।

তেহরানের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে গত মাসে ওয়াশিংটন তাদের বাগদাদ দূতাবাস থেকে কয়েকশ কর্মীকে সরিয়েও নেয়।

কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় এক্সনমোবিলও তাদের কিছু কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিয়েছিল। কয়েকদিন আগে ওই কর্মকর্তাদের অনেককে বসরায় ফিরিয়ে আনা হয়।

বুধবার রকেট হামলার পর এক্সন তাদের ২১ বিদেশি কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানে করে দুবাই নিয়ে যায় বলে জানান কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি সাময়িক আতঙ্ক তৈরি করলেও তা এক্সনের তেল উত্তোলন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়নি, বলেছেন তারা।

এক্সনের পাশাপাশি ওই এলাকায় রয়েল ডাচ শেল পিএলসি ও ইতালির কোম্পানি এনি স্পাও-র পরিচালনাধীন তেলক্ষেত্রও আছে।

আঘাত হানা রকেটটি স্বল্প-পাল্লার কাতিউসা ক্ষেপণাস্ত্র, বলেছে ইরাকের সেনাবাহিনী।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

গত সপ্তাহে ওমানে ২টি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে দায়ী করলেও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুটি দেশই একে অপরের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষে জড়ানোর অভিপ্রায় নেই জানালেও পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের টুকরো টুকরো ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতমুখর পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য